আজকালের প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গের ৩ মেট্রো প্রকল্পের সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। নিউ গড়িয়া–বারুইপুর, নোয়াপাড়া–ব্যারাকপুর এবং জোকা–ডায়মন্ডহারবার মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমীক্ষায় কেন্দ্রের বাজেটে কিছুই রাখা হল না এবার।  ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর বরাদ্দ কমল ৮০০ কোটি টাকা। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বলেছেন, ‘‌বরাদ্দ কমিয়ে বাংলাকে বঞ্চনা করা হল। বাংলাকে বঞ্চিত করার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা এটা মানব না।’
পূর্ব রেলের ৮টি রুট বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে কিছু দিন আগেই তোলপাড় হয়েছিল রাজ্যে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিবাদের মুখে সে–সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে কেন্দ্র। কিন্তু বাজেটে ফের ফুটে উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাজেটের রেল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, বাংলার জন্য রয়েছে সেই বঞ্চনাই। নতুন কোনও প্রকল্পের ঘোষণা তো হয়ইনি, উল্টে পূর্বঘোষিত প্রকল্পগুলিকেও হিমঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জোকা থেকে ডায়মন্ড হারবার, নিউ গড়িয়া থেকে বারুইপুর এবং নোয়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর— এই তিন প্রকল্পের সমীক্ষায় কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রোর বরাদ্দ হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা, গত বছর যা ছিল ১৯৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ কমল। অন্যান্য প্রকল্পে যা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা–ও যৎসামান্য। যেমন বরানগর–দক্ষিণেশ্বর প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। ফলত বাংলার ভাঁড়ারে প্রাপ্তিযোগ যে শূন্য, তা স্পষ্ট। তবে জোকা–বিবাদী বাগ রুটে বেশ খানিকটা বরাদ্দ বেড়েছে। শুধু মেট্রোই নয়, পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্বে রেলের জন্যেও কোনও ঘোষণা নেই।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, রেলের বাজেট বরাদ্দ করতে গিয়ে মোদি সরকার কি বিরোধীদের শাসনে থাকা রাজ্যগুলিকে ‘‌শাস্তি’‌ দিতে চেয়েছে?‌ তৃণমূল–শাসিত পশ্চিমবঙ্গে বরাদ্দ ছাঁটাই হয়েছে ১৪ শতাংশ। বামেদের রাজ্য কেরলে বরাদ্দ কমেছে ২৩ শতাংশ। আপ–শাসিত দিল্লিতে বরাদ্দ ছাঁটাই ৪০ শতাংশ। উল্টোদিকে মোদির রাজ্য গুজরাটে এবার বরাদ্দ বেড়েছে ২০ শতাংশ। বিজেপি–শাসিত রাজস্থানে বৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ৮ শতাংশ। বন্ধু নীতীশ খুশি হতে পারেন, বিহারে বরাদ্দ বেড়েছে ১৯ শতাংশ। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকল্পে বৃদ্ধি ৮ শতাংশ।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top