প্রভাত সরকার, ফরাক্কা: বাড়িতে শৌচালয় না বানানোয় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছিল মেয়ে। অবশেষে মেয়ের জেদের কাছে নতি স্বীকার করে গোয়নাগাটি, ছাগল বিক্রি করে বাড়িতে শৌচালয় বানিয়েছিলেন মা। মেয়েও ফেরে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। সামশেরগঞ্জ ব্লকের শেরপুরের ঘটনা। গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির সেই ছাত্রী সুষমা খাতুনকেই এবার রোল মডেল করে সচেতনতা প্রচারে নামল সামশেরগঞ্জ ব্লক প্রশাসন। সুষমার মতো ছোট মেয়ের শৌচালয় গড়ার আবেদন লজ্জায় ফেলছে গ্রামবাসীদের। অনেক পরিবার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে শৌচালয় গড়তে উদ্যোগী হচ্ছে।
সামশেরগঞ্জ ব্লকের শেরপুর গ্রামের পেশায় রাজমিস্ত্রি আইনুল হক দু’‌বছর আগে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই সময় দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন বিধবা সায়েমা বিবি। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থায় কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছিলেন। গ্রামের লোকদের মতো তারাও বাড়ির পাশের মাঠেই শৌচকর্ম করতে অভ্যস্ত ছিলেন। দু’‌বছর আগে নির্মল বাংলা কর্মসূচি সফল করতে যখন মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে প্রচার শুরু হয় সে সময় গ্রামের অনেক বাসিন্দা সরকারি ভাবে শৌচালয় পেয়ে গেলেও সায়েমা বিবির নাম না থাকায় পাননি তিনি। শৌচালয় না পেলেও শৌচকর্ম করতে অসুবিধা হত না। কিন্তু প্রচারাভিযানের শেষ সময়ে গ্রামের বাসিন্দা থেকে শুরু করে স্কুলে স্কুলে গিয়ে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান গড়ে তোলা হয়। নিত্যদিন প্রার্থনার লাইনে দঁাড়িয়ে বাড়িতে শৌচালয় রয়েছে কি না তা জিজ্ঞসা করতেন প্ৰধান শিক্ষক। সকলে হ্যাঁ বললেও প্রতিদিন লজ্জায় মাথা নত করত সুষমা। তাই হঠাৎ করে সেপ্টেম্বর মাসে স্কুল যাওয়াই বন্ধ করে দেয় সে। বাড়িতে সুষমা সাফ জানিয়ে দেয় শৌচালয় না হলে স্কুলে যাবে না। মেয়েকে স্কুল পাঠানোর তাগিদে তিন হাজার টাকা দিয়ে ছাগল ও আট হাজার টাকা দিয়ে কানের দুল বিক্রি করে শৌচালয় গড়ে তোলেন সায়েমা বিবি। স্কুলে যেতে শুরু করে সুষমা। তার এই উদ্যোগ চোখে পড়তেই ব্লক অফিসে ডেকে সংবর্ধনা দেন সামশেরগঞ্জের বিডিও জয়দীপ চক্রবর্তী। রবিবার শেরপুর গ্রামের তিনটি সংসদে সুষমাকে নিয়ে গিয়ে প্রচার সারেন ব্লকের অধিকারিকরা। সঙ্গে ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও। 

শৌচালয় গড়ার আবেদন নিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে প্রচার করছে সুষমা খাতুন। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top