জনতাকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি বিলি তৃণমূলের

চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কাটোয়া: যেন রাজার চিঠি। রবি ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকের মতোই এই চিঠি পরাজয়ের অসুখের নিশ্চিত নিরাময়। মুছিয়ে দেবে সমস্ত গ্লানি। নব আনন্দে জাগবে বাংলা। লিখেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। উদ্দিষ্ট বাংলার তামাম নাগরিক। 
বর্তমান সময়ের সঙ্কটকে মনে করিয়ে চিঠির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সকলকে নিয়েই ‘উন্নত বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখতে চেয়েছেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ‘উন্নয়নই আমাদের ব্রত।’ সর্বভারতীয় তৃণমূলের তরফে ‘শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’ শীর্ষক পত্রের ছত্রে ছত্রে মমতা বাংলার মানুষের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন, ‘যখনই মানুষের অধিকারের দাবিতে আমরা পথে নেমেছি, তখনই সাথী হয়েছেন আপনারা।’ স্বীকার করেছেন, ‘আপনারা তৃণমূল কংগ্রেস ও মা মাটি মানুষের ওপর আস্থা রেখেছেন, আশীর্বাদ করেছেন, দোয়া দিয়েছেন এবং সাথে চলার অঙ্গীকার করেছেন।’ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘শুধু মূর্তি ভেঙে বাংলার মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা যাবে না। বাংলা চলবে তার সংস্কৃতি মেনে, সোনালি অতীতের আদর্শ অনুকরণ করে।’ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, বিবেকানন্দ, নজরুল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র, রামকৃষ্ণ, মহাত্মা গান্ধী প্রমুখ মনীষীর আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ করেছেন বীরসা মুণ্ডা, বিআর আম্বেদকর, আবুল কালাম আজাদ, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, ভগৎ সিংয়ের অবদান। তঁার বিশ্বাস, ‘আজও বাংলা শোষকের চোখে চোখ রেখে দৃপ্ত কন্ঠে গেয়ে উঠতে পারে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম আর ছিনিয়ে নিতে পারে তার অধিকার।’
চিঠিতে বর্তমান ভারতের অবস্থা আর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা। লিখেছেন, ‘বিভেদপন্থা গ্রাস করতে চাইছে আমাদের ভারতকে। প্রান্তিক মানুষের আবেগকে বিপথে চালিত করার চক্রান্ত চলছে। ধর্মের কারবারের মূল্য চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।’ সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটে মানুষের ‘আশীর্বাদ–দোয়া’ তৃণমূলের ‘জয়ের পাথেয় হয়ে উজ্জ্বলতায় আলোকিত করেছে কাঙ্ক্ষিত বিজয়কে’, এ কথা জানিয়ে মমতার দাবি, ‘আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি ভোটযন্ত্রের যান্ত্রিকতার চাতুর্যে মা মাটি মানুষের রায়কে বেশিদিন বিভ্রান্ত করা যাবে না।’ বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই ‘বাংলা জুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলবে’ জানিয়ে খোলা চিঠিতে মমতার আহ্বান, ‘আমাদের লড়াই বাংলার গণতন্ত্র বঁাচানোর লড়াই, মানুষের অধিকারের লড়াই। আসুন সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাই।’ 
গোটা রাজ্যের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে এই চিঠি বিলি করছেন তৃণমূলের সব স্তরের নেতা–কর্মীরা। তঁাদের বিশ্বাস, ‘ডাকঘর’ নাটকের অমল যেমন ডাকহরকরা হয়ে রাজার চিঠি বিলি করে আমজনতাকে মুক্তির ঠিকানা দিতে চেয়েছিল, মমতার চিঠিটিও বাংলার গণতন্ত্র ফেরানোর পাথেয় হবে। ‘সহজ–সরল ভাষায় স্বল্প পরিসরে দেশের অতীত ও বর্তমানকে তুলে ধরে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো এই চিঠি ইতিমধ্যেই মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে’ বলে জানালেন জেলা তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। বললেন, ‘অনেক সাধারণ মানুষ আমাদের দলীয় কার্যালয় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি চেয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’ বাংলার নাগরিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা এই খোলা চিঠি তৃণমূলের আগামিদিনের লড়াই ও কর্মসূচিতে অক্সিজেন জোগাবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের শুভাকাঙ্ক্ষীরাও। চিঠির শেষে লেখা রয়েছে ‘বাংলা মোদের গর্ব’। আর চিঠি বিলির দায়িত্বে থাকা তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, ‘মমতা ব্যানার্জিই বাংলার গর্ব।’

মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি। ছবি: প্রতিবেদক