আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৮৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাদউদৌল্লা। তাঁকে হারাতে ইংরেজদের সাহায্য করেছিলেন বাংলারই কিছু ধনী জমিদার। এই ধনী জমিদাররাই নিজেদের বিত্তবৈভব প্রদর্শনের জন্য শুরু করেন দুর্গাপুজো। 
তখন সেই প্রতিমা ছিল একচালা। একেবারে সাবেকী ধাঁচের। ধীরে ধীরে শুরু হল বারোয়ারি পুজো। ১২ জন বন্ধু মিলে হাল ধরলেন বন্ধ হতে বসা এক পুজোর। সময়টা ১৭৯০। তার পর ক্রমে সার্বজনীন দুর্গোৎসব। সে এক অন্য ইতিহাস। 
পুজোর ধারা যেমন বদলেছে, সেই সঙ্গে বদলেছে প্রতিমার ধাঁচ। শুরুর দিকে বাড়ির পূজাগুলোতে একটি কাঠামোয় দুর্গা প্রতিমা নির্মাণের প্রচলন ছিল। এই এক কাঠামো দুর্গাই একচালা নামে পরিচিত। যৌথ পরিবারের চিহ্ন বহন করত এই একচালার প্রতিমা। মাঝে দেবী দুর্গা। তার দু’‌পাশে লক্ষ্মী, সরস্বতী এক পা সামান্য বাঁকিয়ে পদ্ম বা বাহনের ওপর দাঁড়ানো। তাঁদের নীচেই গণেশ ও কার্তিক। বেলুড় মঠ সহ বেশ কয়েকটি সার্বজনীন পুজোয় এখনও এই ধারা চলছে।
পরবর্তীকালে দুর্গার একচালা ভেঙে পাঁচচালার প্রচলন করেন গোপেশ্বর পাল নামে এক প্রতিমা শিল্পী। ১৯৩৩ সালে কুমোরটুলি অঞ্চলের এক সার্বজনীন দুর্গা পুজোয় তিনি প্রথম একচালা কাঠামো ভেঙে পাঁচচালার দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করেন। এই পাঁচচালায় প্রত্যেক দেবতার জন্য আলাদা কাঠামো থাকে।
বারোয়ারি পূজা এবং পরবর্তী সময়ে সার্বজনীন দুর্গাপূজার প্রচলন হওয়ার কিছু সময় পরে একচালার প্রচলন থাকে। বড় হতে থাকে প্রতিমা। এক চালে স্থান দেওয়া আর সম্ভব ছিল না। ধীরে ধীরে এই প্রতিমাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যদিও এখন থিমপুজোর হিড়িকে পাঁচচালাও কমে এসেছে। 
 

জনপ্রিয়

Back To Top