তুফান মণ্ডল, পুরশুড়া, ৫ ফেব্রুয়ারি- শুধু পড়াশোনা নয়, একেবারে প্রথম থেকেই শিশুমনে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধরনের ব্যবস্থা একটা দৃষ্টান্ত। অথচ সেটাই করে দেখালেন পুরশুড়ার শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পারুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবকুমার সামন্ত। প্রাক প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পঁাচটি ঘরের মধ্যেই এই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও মূল ফটকের সামনেও একটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মিড ডে মিলের রান্নাঘরে ও স্টাফরুমে আরও দুটি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ক্যামেরাগুলির মনিটর প্রধান শিক্ষক বিপ্লববাবুর টেবিলের সামনেই রাখা হয়েছে। আর এই সিসিটিভি প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্রী তথা বর্তমানে মেডিক্যালের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী জেসমিন ইয়াসমিন।  বিপ্লববাবু জানালেন, ‘‌স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে পড়াশোনা ও সংস্কৃতিবোধ গড়ে তোলার জন্য নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, পড়াশোনার বাইরেও শিক্ষক–শিক্ষিকাদের অবর্তমানে কোন পড়ুয়া কেমন আচরণ করে, তা দেখার জন্যই শ্রেণিকক্ষে এই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কে সহপাঠীর সঙ্গে ঝগড়া করছে, কে অন্যকে পড়াশোনায় বাধা দিচ্ছে, তা অফিসে বসেই দেখা যাচ্ছে। স্কুল ছুটির পর ওই পড়ুয়াকে অফিসে ডেকে মনিটরে তাদের দুষ্টুমি করার ছবি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে সে জেনে যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষে কোনও খারাপ আচরণ করলে তা প্রধান শিক্ষক দেখতে পাচ্ছেন। তাই তারা স্কুলে ঢোকার পর থেকেই সব সময় ভালভাবে থাকার চেষ্টা করছে। এর পরেও কেউ নিজেকে সংশোধন না করলে শিক্ষক ও অভিভাবক একসঙ্গে মিলে তার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হল, পড়ুয়াদের মধ্যে সৎচরিত্র গঠন, যাতে তারা আদর্শ মানুষ হতে পারে।’‌ তবে সিসি ক্যামেরা বসানোর ফলে শুধু পড়ুয়ারাই নয়, দেরি করে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদেরও সচেতন করা সুবিধাজনক হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানালেন, ‘‌কোনও পড়ুয়া নিয়মিত দেরি করে পৌঁছলে, সেই অভিভাবককে মূল ফটকের ক্যামেরার ছবি দেখিয়ে তাঁর বাচ্চার দেরিতে ঢোকার ব্যাপারে সচেতন করতে পারব।’‌    

সিসি ক্যামেরার সামনে প্রধান শিক্ষক বিপ্লবকুমার সামন্ত।ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top