বুদ্ধদেব দাস,মেদিনীপুর: বাংলাদেশি এক মহিলাকে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়ায় গ্রেপ্তার হলেন খড়্গপুরের এক বিজেপি নেতা। খড়্গপুর শহরের গেট বাজারের বাসিন্দা ওই মহিলা। ধৃত বিজেপি নেতার নাম রবি কুমার। তিনি বিজেপি–র  ক্লাব অফ স্পোর্টস সেলের আহ্বায়ক। বিজেপি–র  রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেই তিনি পরিচিত। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে সাংসদ দিলীপ ঘোষের একটি শংসাপত্র জোগাড় করে বাংলাদেশি ওই মহিলাকে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরিতে রবি কুমার সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার কোতোয়ালি থানায়। ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে বুধবার রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জলপাইগুড়িতে।
বিজেপি–র পক্ষ থেকে এনআরসি–র ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই দলের এক নেতা বাংলাদেশি মহিলাকে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করতে সাহায্য করেছেন। গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এই খবর জানাজানি হতেই খড়্গপুর উপনির্বাচনের আগে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। এ বিষয়ে বিজেপি–র স্থানীয় নেতারা কিছু বলতে চাইছেন না। শোনা যাচ্ছে সাংসদ দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে দলের কেউ রবি কুমারের একাধিক অনৈতিক কাজকর্ম দেখেও মুখ খুলতে সাহস পান না। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ১৬ জুলাই জলপাইগুড়ি শহরের একটি পানশালায় অভিযান চালায় পুলিশ। তখন বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তারা। ওই সময় গ্রেপ্তার হন পানশালার কর্মী সৌমেন বাইন ও তঁার স্ত্রী পুষ্পা রায়। পুলিশ জানতে পারে, সৌমেনের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরে। তঁাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে জানা যায়, পুষ্পা রায়ের আধার কার্ড রয়েছে।
তদন্তের পর পুলিশ জানতে পারে ওই আধার কার্ডটি জাল। পুষ্পা আসলে বাংলাদেশের নাগরিক। তদন্ত করে আরও জানা যায়, ওই মহিলাকে জাল আধারকার্ড তৈরি করতে সাহায্য করেছেন খড়্গপুরের বিজেপি নেতা রবি কুমার। এর পরই খড়্গপুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। যদিও বিজেপি–র জেলা সভাপতি শমিত দাস জানান, নির্বাচন এসেছে তাই মিথ্যা মামলা দিয়ে বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। এটা হয়ে থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। আইনের পথেই এর মোকাবিলা করা হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top