আজকালের প্রতিবেদন: কেন্দ্রীয় সরকার অধিগৃহীত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে চালু রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় খুশির হাওয়া সংস্থার স্থায়ী, অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে। ন্যাশনাল কোম্পানি ল’‌ অ্যাপিল ট্রাইব্যুনাল সোমবার তার রায়ে বলেছে, বার্ন স্ট্যান্ডার্ড যে রেজোলিউশন প্ল্যান ন্যাশনাল কোম্পানি ল’‌ অ্যাপিল ট্রাইব্যুনালের কলকাতা বেঞ্চ অনুমোদন করেছে, তা দেউলিয়া আইনের পরিপন্থী। বিচারপতি এস জে মুখার্জি এই রায় দেন। সেই রায়ে বলা হয়েছে, সংস্থা চালু রাখার পাশাপাশি কোনও কর্মী ছাঁটাইও চলবে না। সংস্থা বন্ধের প্রস্তাবটি বাদ দিয়ে নতুন প্রস্তাব এনসিএলটি–তে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা বেঞ্চকে। বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কর্তৃপক্ষ তা না করলে পুরো পরিকল্পনাটাই বাতিল করা হবে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে জানানো হয়েছে।
গত বছর বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল কোম্পানি ল’‌ ট্রাইব্যুনালের কলকাতা বেঞ্চে গিয়েছিল নতুন দেউলিয়া বিধি অনুযায়ী। দেওয়া হয় পাওনাদারদের পাওনাগন্ডা মেটানোর রেজোলিউশন প্ল্যান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড গোটানোর ঘোষণা করেন রেল কর্তৃপক্ষ। এরপর সেই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেয় ন্যাশনাল কোম্পানি ল’‌ ট্রাইব্যুনাল। পাশ হয় রেজোলিউশন প্ল্যানও। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে যান কর্মীরা। সে সময় সংস্থায় ৫৭ জন স্থায়ী কর্মী ছিলেন। প্রায় ১৪০০ ঠিকাশ্রমিক।
আইএনটিটিইউসি–র নেত্রী দোলা সেন বলেন, ‘‌ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। এর মধ্যে দিয়ে মোদি সরকারের পতন শুরু হল। ওরা সব বন্ধ করে দিচ্ছে। আদালতের নির্দেশে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড খুলতে হবে। ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সরকার আসবে। তখন আদালতের নির্দেশ যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়, তা আমরা দেখব।’‌ 
সিটু নেতা অনাদি সাহু বলেছেন, বিজেপি–র আমলে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আদালতের রায়ে নতুন করে আশার আলো দেখা গেল। অনেক কর্মী স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। যাঁরা আছেন তাঁদের নিয়ে কীভাবে সংস্থাকে পুনরুজ্জীবন এবং আধুনিকীকরণ করা যায় তা দেখতে হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পর আমরা এ নিয়ে আলোচনায় বসব। 
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বার্ন স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি গোপাল ভট্টাচার্য মঙ্গলবার বলেছেন, আমাদের দাবি স্বীকৃতি পেল। যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষকে বলছি। ভোট মিটলেই এটা নিয়ে চাপ দেব। ৫৭ জন স্থায়ী কর্মীকে এখনই পুনর্বহাল করতে বলব। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত। মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী থাকার সময় রেল ২০১০ সালে এটি অধিগ্রহণ করেছিল। বিজেপি এসে সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top