আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাংলার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শুক্রবার বিকেল থেকেই রাজ্যে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। আজ–কাল–পরশু ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। সৈকতে টানা নজরদারি, মাইকিং করা হচ্ছে। সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মত্‍স্যজীবীদের। ‘‌ফণী’‌র পর আরও এক ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে রাজ্যবাসী। কিন্তু ভয়াবহ এই ঘুর্ণিঝড়ের নাম বুলবুল হল কী করে? প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। বিভিন্ন নামে ডাকা হয় ঘূর্ণিঝড়গুলিকে। প্রশ্নও ওঠে, ঝড়ের এত ভিন্ন ভিন্ন নাম কেন? কী ভাবেই বা হয় এই নামকরণ? আসলে, ভারত মহাসাগরে হওয়া সমস্ত ঝড়ের ক্ষেত্রে এই নামকরণের দায়িত্ব রয়েছে মূলত ৮টি দেশের উপর। ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা। এই আটটি দেশ পালা করে ঝড়গুলির নামকরণ করে। সেই ক্রমে বুলবুলের নামকরণ করেছে পাকিস্তান। ঠিক যেমন কয়েকমাস আগের ঝড়ের নাম ‘‌ফণী’‌ দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারত মহাসাগর সংলগ্ন দেশগুলির আবহাওয়া ভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটির ভাণ্ডারে রয়েছে আর কেবল দু’‌টি নাম। পরবর্তী দু’‌টি ঝড়ের নাম হতে পারে পবন (‌শ্রীলঙ্কা)‌ ও আমফান (‌থাইল্যান্ড)‌। তালিকায় এরপর আরও কোনও নাম নেই। কিন্তু তারপর?‌ সেই নিয়েই এখন চিন্তাভাবনা করছে ওই কমিটি। কারণ সিডার (ওমান), নার্গিস (পাকিস্তান), বিজলি ( ভারত), আয়লা (মালদ্বীপ) এছাড়াও অন্যান্য ঝড়ের নামও ব্যবহার হয়ে গিয়েছে। নিয়মানুসারে এই নামগুলি আর দ্বিতীয়বার আর ব্যবহার করা যাবে না। আসলে ঝড়ের এই নামকরণ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলেছিল। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় পৃথক নাম দেওয়ার পালা। তার আগে স্থানভিত্তিক নামেই সামুদ্রিক ঝড়গুলি পরিচিত হত।
এদিকে, প্রথম থেকেই বুলবুলের গতিপথ নিয়ে বেশ খানিকটা ধন্দে ছিলেন আবহবিদরা। বাংলায় বুলবুলের প্রত্যক্ষ প্রভাব না পড়লেও পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়বেই। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। সাগরদ্বীপের কাছাকাছি এবং বাংলাদেশের উপকূলে স্থলভাগের ওপরেই আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল। রাজ্যের উপকূলবর্তী সব জেলায় ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং নদিয়ায়। দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের মতো সৈকতে চলছে কড়া নজরদারি। গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মত্‍স্যজীবীদের।  
সকাল থেকেই আকাশ রয়েছে মেঘলা। সন্ধে থেকে বাড়বে হাওয়ার গতিবেগ। আগামীকাল হাওয়ার গতিবেগ আরও বাড়ার সম্ভাবনা। রবিবার দুপুরের আগেই আছড়ে পড়ার আশঙ্কা বুলবুলের। ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top