স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট, ১১ নভেম্বর- বাড়ির উঠোনে বিয়ের ম্যারাপের সরঞ্জাম। দু’‌দিন আগেও হাসি–‌কলরবে বাড়িতে বিয়ে বিয়ে আবহাওয়া ছিল। এখন সেই বাড়িতে কান্নার রোল। রবিবার সকালে বুলবুলের ঝাপটায় বসিরহাটের গোটরা পঞ্চায়েতের মাটনিয়া গ্রামে রিম্পা খাতুনদের বাড়ি থেকে সব খুশি উধাও। বৃহস্পতিবার বিয়ে রিম্পার। তারই আয়োজনে জল ঢেলে দিয়েছে বুলবুল।
শনিবার রাতে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। রাতটা উদ্বেগেই কেটেছিল পাড়া–‌প্রতিবেশীদের মতো। সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যয় অপেক্ষা করছিল। রিম্পার বাবা মইদুল গাজি বেরিয়ে ছিলেন বাইরে। তখনও ঝড় চলছে। আচমকা বাড়ির সামনে রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে এসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৬০ বছর বয়সী মইদুল গাজির। চাষবাস করে দিন চলে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি। মইদুল গাজির ২ মেয়ে। বড় মেয়ে রিম্পা। বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট মেয়ে সানিয়া ক্লাস এইটে পড়ে। রিম্পার বিয়ে ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। পাত্রের বাড়ি বসিরহাট ২ ব্লকের ধোকরা গোবিন্দপুর গ্রামে। বাড়িতে তার তোড়জোড় চলছে। নিমন্ত্রণ, কেনাকাটা হয়ে গেছে। সব কিছুতেই বাদ সেধেছে বাবার  
এভাবে মৃত্যু। 
বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রিম্পা। কথা বলার শক্তি নেই মা ফজিলা বিবির। মা মেয়ের কান্না থামছে না। রিম্পার জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছেন পাত্রপক্ষের বাড়ির লোকেরা এবং পাড়া‌প্রতিবেশীরা। তঁারা ঠিক করেছেন, শোক তো আর প্রশমিত হবে না। কিন্তু মেয়েটার জীবনের ভবিষ্যৎ ভেবে বৃহস্পতিবারেই রিম্পার বিয়ের আয়োজন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পাড়াপ্রতিবেশীরা, আত্মীয় ও পাত্রপক্ষের বাড়ি। রিম্পার এক আত্মীয় মজনুর মণ্ডল বলেন, ‘‌‌এ শোক তো ভোলার নয়। ভবিষ্যতে ঝড় এলেই এদিনের আতঙ্ক তাড়িয়ে বেড়াবে পরিবারটাকে। এখন আমাদের কর্তব্য মেয়েটার বিয়েটা ভালভাবে দেওয়া‌। আমরা পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রামের সবাইকে নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছি।’‌

 

মৃত মইদুল গাজির মেয়ে রিম্পা খাতুন। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top