আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। বকখালি, কাকদ্বীপ, সাগরদ্বীপ বিধ্বস্ত। উড়ে গিয়েছে বাড়ি, দোকানের চাল। গাছ উপড়ে, বিদ্যুৎ, টেলিফোনের খুঁটি ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বকখালি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া বহু মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। নামখানায় একটি নির্মীয়মাণ জেটি সহ মোট দুটি জেটি ভেঙে পড়েছে। নামখানা স্টেশনেও ঝড়ের তাণ্ডব। কাকদ্বীপ স্টেশনে গাছ পড়ে, প্ল্যাটফর্মের চাল উড়ে যাওয়ায় রবিবার ওই স্টেশনে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

টাকিতে ইছামতী নদীর উপর প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চালু না হওয়া একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ তলিয়ে গিয়েছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত সেটি তোলা সম্ভব হয়নি। এদিন সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় উপড়ে পড়া গাছ কেটে রাস্তা সাফাইয়ের কাজ শুরু করেছে এনডিআরএফ। বসিরহাটে ঝড়ের ফলে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে সসিনা গ্রামে গাছ পড়ে মারা গিয়েছেন ৪৬ বছরের রেবা বিশ্বাস। নোদাখালিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক কিশোরের। হিঙ্গলগঞ্জে বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে এক মহিলা মারা গিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থানার ভেটুরিয়া গ্রামেও বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবতী ২৬ বছরের সুজাতা দাসের।

খেজুরি, নন্দীগ্রাম, নয়াচর, হলদিয়া, দিঘাতেও বহু বাড়ি, দোকানপাট ভেঙে পড়েছে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে। পানের বরজ নষ্ট হয়ে পানচাষ ক্ষতিগ্রস্ত। নষ্ট হয়ে গিয়েছে ধানের চারাও। প্রশাসন সূত্রে খবর, মানুষদের ৩১৮টা ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে। ২১৫টা রান্নাঘর খোলা হয়। দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য ৯৪টা নৌকা মজুত করে রাখা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন করা হয় ১৩৫০০০ স্বেচ্ছাসেবী।
ছবি:‌ এএনআই 

জনপ্রিয়

Back To Top