চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও বিজয়প্রকাশ দাস, মন্তেশ্বর ও পূর্ব বর্ধমান: লক্ষ্মীর ভাসান উপলক্ষে আতশবাজি ফাটানোর প্রদর্শনী চলছিল মন্তেশ্বরের আসানপুর গ্রামে। মঙ্গলবার রাতের এই বাজি পোড়ানোর অনুষ্ঠান দেখতে হাজার হাজার জনতার ঢল নামে। আচমকা সেই বাজি ছিটকে এসে লাগে বছর দশেকের বালকের মাথায়। শিবম ঘোষ নামে ওই তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ার মাথার মধ্যে ঢুকে যায় বাজির অংশ। সঙ্গে সঙ্গে শিবমকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্তেশ্বর হাসপাতালে। অবস্থা দেখে তাকে সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় শিবমের। 
সূত্রের খবর, পুলিশের অনুমতি না নিয়েই চলছিল বাজির প্রদর্শনী। একটি কদমগাছের মতো কাঠামো তৈরি করে গাছের মাথা থেকে একেবারে মাটির কাছ পর্যন্ত গোটাটা বিভিন্ন ধরনের আতশবাজিতে মুড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করাকে এলাকায় কদমগাছ ফাটানো বলে। আসানপুর গ্রামে লক্ষ্মীপুজোর ভাসানে তেমনটাই চলে আসছে তিন দশক ধরে। শিবম যদিও ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটা দোকানের সামনে বসে বাজি প্রদর্শনী দেখছিল। সেই সময়েই বাজি ছিটকে এসে তার মাথার পিছন দিকে ঢুকে ঝলসে যায়। গভীর ক্ষত তৈরি হয়ে সাঙ্ঘাতিকভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। 
বর্ধমান মেডিক্যালে মৃত বালকের দাদু পরিমল ঘোষ জানিয়েছেন, বিগত ৩৭ বছর ধরে এই প্রদর্শনী হয়ে আসছে। যখন আতশবাজির একটি গাছ পোড়ানো হচ্ছিল, তখন আতশবাজির মাথায় একটি চরকি ঘুরছিল। আচমকাই সেটি বন্ধ হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাতে বিস্ফোরণ ঘটে। চরকি দ্রুতগতিতে ছিটকে এসে বাচ্চাটির মাথায় আঘাত করে। মাথা ফাটিয়ে দেয়। এতে গোটা শরীর রক্তে ভরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রথমে মন্তেশ্বর হাসপাতালে ও পরে স্থানান্তরিত করে ওই রাতেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যু হয়।‌

জনপ্রিয়

Back To Top