চন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়,বোলপুর: বীরভূমে ১৪ ডিসেম্বর অমিত শাহ–র রথযাত্রার দিন ব্লকে ব্লকে রাস্তায় থাকবে অনুব্রত মণ্ডলের খোল–করতাল। বুধবার বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে তৃণমূলের পক্ষ থেকে হরিনাম গান ও কীর্তন সম্মেলনে চার হাজার খোল ও আট হাজার খঞ্জনি বিলি করা হয়।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এই সম্মেলনে সুমন ভট্টাচার্য, পারভিন সুলতানার মতো বিশিষ্ট কীর্তনিয়াদের সংবর্ধনা জানিয়ে বলেন, ‘‌হরিনাম ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হরিনাম সংকীর্তন শুধু কোনও বিশেষ ধর্মের মধ্যে আবদ্ধ নেই, চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে মুসলিমরাও পা মিলিয়ে ছিলেন। ঘরে ঘরে মানুষের মনের মন্দিরেই রাম রয়েছেন। তাই অযোধ্যায় রাম মন্দির করার নামে রাজনীতি করার কোনও দরকার নেই। অযোধ্যাতে রামকে যারা বন্দি করে রাখতে চাইছেন, তঁারা বিভাজনের রাজনীতি করেন।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত বলেন, ‘‌কে কবে রথযাত্রা করবে জানি না। আমরা জানি, রথ হয় আষাঢ় মাসে। অন্য সময় আবার কীসের রথ? তবে, ১৪ ডিসেম্বর বীরভূমের ১৯টি ব্লকে ও বর্ধমানের আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটের ব্লকগুলিতে ব্লক সভাপতিরা খোল করতাল নিয়ে পথে নামবেন।’‌ উল্লেখ করা যেতে পারে, এই ১৪ ডিসেম্বরেই বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বীরভূম থেকে রথযাত্রা শুরু করার কথা। প্রথমে ঠিক ছিল ৫ ডিসেম্বর রথযাত্রা করবেন তিনি। সেই মতো অনুব্রতর খোল–খঞ্জনি নিয়ে সম্মেলনের দিন ঠিক করেছিলেন ৫ ডিসেম্বর। অমিত শাহর রথযাত্রা ৫ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ১৪ ডিসেম্বর তারাপীঠ থেকে অমিত শাহের রথ পৌঁছবে রামপুরহাটে। সেখানে সভা করবেন তিনি। সেই সভায় নরেন্দ্র মোদিরও আসার কথা। ওই দিন রাতে বিজেপি–র রথ চলে যাবে নলহাটি। ১৫ ডিসেম্বর সঁাইথিয়া, ১৬ ডিসেম্বর সিউড়ি, ১৭ ডিসেম্বর বোলপুরে বিজেপির রথ থাকবে। ১৮ ডিসেম্বর নানুর হয়ে বিজেপির রথ চলে যাবে বর্ধমানে।
অনুব্রত এদিন বলেন ‘‌রথযাত্রা না শেষ যাত্রা, তা আমার জানা নেই। তবে ১৯ গোটা দলটাই মারা যাবে। তখন এই খোল–করতাল বাজিয়ে ওদের নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ এই খোল–খঞ্জনি, হরিনাম সবই জন্মালে, গৃহপ্রবেশে এমনকি মরলেও প্রয়োজন হয়। মৃতদেহের সামনে খোল বাজিয়ে বলহরি হরিবোল বলে নিয়ে যাওয়া হয়।’‌ সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন অমিত শাহর রথের আগে খোল বাজিয়ে কী বার্তা দিতে চান?  উত্তরে তিনি বলেন, ‘‌এগুলো আপনারা ব্যাখ্যা করছেন। আমার বক্তব্য, ২০১৯–এ রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে এদের (‌বিজেপি)‌।’‌ এদিনের সভায় রাজ্যের কৃষমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভূমের জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এঁরা সকলেই অনুব্রতর উদ্যোগকে অভিনব বলে ব্যাখ্যা করেন। এই অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দলকে একটি করে খোল, দু’‌জোড়া করে খঞ্জনি তুলে দেওয়া হয়। কীর্তনিয়া এবং নাম গানের দলের জন্য ছিল খাবারের ব্যবস্থাও। ১৫ হাজার লোকের জন্য লুচি, কুমড়োর তরকারি ও বোঁদের ব্যবস্থা করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ এর আগে অনুব্রত পুরোহিত সম্মেলন, রাম নবমীর পুজো— এসব নানান অনুষ্ঠান করে বিজেপি–র পালের হাওয়া কেড়ে নিয়েছিলেন।‌

এক কীর্তনিয়ার হাতে খোল তুলে দিচ্ছেন অনুব্রত মণ্ডল। ছবি:‌ প্রতিবেদক খোল–খঞ্জনি নিয়ে কীর্তনিয়ারা। ছবি:‌ শান্তনু দাস

জনপ্রিয়

Back To Top