‌যজ্ঞেশ্বর জানা, কাঁথি: ‘‌কাঁথিতে আবার ভোট হবে। বিজেপি জিতবে।’‌ রবিবার দুপুর নাগাদ দিঘা গেটের ঠিক আগে মদের নেশায় হাবুডুবু খাওয়া দুই বিজেপি কর্মী গলা ফাটিয়ে এই বাক্যব্যয় করছিলেন। এই দুই মাতাল যে গুজবের অংশীদার হয়েছে সন্দেহ ছিল না। এগিয়ে গিয়ে ধরতেই দু’‌জনই স্বীকার করে, তারা তাদের নেতার মুখে শুনেছে এসব কথা। ১২ মে ভোট হয়ে গেছে কঁাথি লোকসভা কেন্দ্রে। ভোটপরবর্তী সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে শিশিরবাবুর মৃত্যুর গুজব। গুজবটি ছড়িয়ে পড়ায় জেলার নানা প্রান্তে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। 
তৃণমূলের নিচুস্তরের নেতা–কর্মীরাও এমন খবর পেয়ে চেষ্টা চালান শিশিরবাবুর পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কিংবা তঁাদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই শিশিরবাবুর। গুজবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। বলেন, ‘‌সব জানি। বিজেপি ভোটের আগে প্রচার করেছিল আমি পিজি হাসপাতালে মারা গেছি। এখন বলাবলি করছে, মৃত্যুর খবর ধামাচাপা দিতে আমাকে আইসিইউ–তে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।’‌ ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘‌আমিও তো একজন মানুষ, যে কোনও মুহূর্তে অসুস্থ হতেই পারি। তা বলে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা গুজব কেন!‌ রাজনীতিতে কিছু নিচু মনের মানুষ ঢুকে পড়ায় এমন নোংরামি হচ্ছে।’‌ প্রবীণ এই তৃণমূল নেতা বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভাল আছেন। রবিবার পর্যন্ত তিনি নিয়ম মেনে সকাল–সন্ধে কঁাথি পুরসভায় এসেছেন নিজের চেম্বারে। কখনও রিমোট হাতে চ্যানেল ঘুরিয়ে চোখ রেখেছেন শেষ দফার ভোটে। আবার কখনও পাতা উল্টে দেখেছেন খবরের কাগজ। গুজবের জেরে ধেয়ে আসা একের পর এক ফোন ধরে তঁাকে বলতে হয়েছে, ‘‌আমি সুস্থ আছি, ভাল আছি।’‌ বিষয়টি নিয়ে বেশ চটেছেন শিশিরবাবুর ছেলে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী। ঘটনার নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘‌রাজনীতিতে বিরোধীরা ফায়দা তোলার একটা চেষ্টা করে। সেই ফায়দা তুলতে গিয়ে বিজেপি শিশিরবাবুর মৃত্যু কামনা করছে। বিজেপি–র পক্ষেই এমন ঘৃণ্য রাজনীতি সম্ভব। ভোটের ফল এর জবাব দেবে।’‌ 
এমন গুজবের জন্য বিজেপি–কে সরাসরি দায়ী করছেন জেলার অন্য তৃণমূল নেতারা। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই গুজবের জন্য দায়ী করছেন তৃণমূলের লোকেদের। কঁাথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি–র মিডিয়া ইনচার্জ নবীন প্রধান বলেন, ‘‌ভোটের আগে শিশিরবাবু অসুস্থ জেনে সৌজন্য দেখিয়ে দলের তরফে আমরা তঁার আরোগ্য কামনা করেছিলাম। ভোটের পর তঁার মৃত্যুর গুজবও আমাদের কানে এসেছে একইভাবে। এই গুজবের পিছনে তৃণমূলের রাজনীতি আছে। এই গুজব রটানোর ক্ষেত্রে বিজেপি–র কোনও যোগ নেই।’‌ এই ঘৃণ্য গুজবের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছেন শিশির অনুগামীরা। 

জনপ্রিয়

Back To Top