মধুরিমা রায়: রাজ্যে দলের ফলাফলে ক্ষুব্ধ বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথাগত রায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সোশ্যাল মাধ্যমে একের পর এক তাঁর টুইট দেখা গেছে। কখনও সেখানে দলের দিকে আঙুল তুলে জানতে চেয়েছেন, 'পায়েল , শ্রাবন্তী, তনুশ্রী ইত্যাদি ‘নগরীর নটীরা’ নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে ? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ–কৈলাশ–শিবপ্রকাশ–অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি?' আবার কখনও তিনি লিখেছেন, এই তারকারা রাজনীতির কিছুই বোঝেন না, কোনও যোগাযোগ নেই রাজনীতির সঙ্গে, রাজনৈতিক জ্ঞান শূন্য এই মানুষদের কেন টিকিট দেওয়া হয়েছে? তিনি আরও যোগ করেন, 'এটা ভুলে গেলে চলবে না বিজেপির টিকিট পাওয়া মানেই অনেক টাকা পাওয়া। সেটাতো ভোটে লড়ার জন্যই। নাকি অন্য কিছু করার জন্য?' Aajkaal.in তথাগত রায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল জানান ‘আমায় প্রশ্ন করে লাভ নেই, আমি দলের কাছে প্রশ্ন রেখেছি। এবার দল জবাব দিক।’ নিজেকে দলের সামান্য কর্মী হিসেবে বারবার তুলে ধরে তথাগত বাবুর প্রশ্ন, ভোটের আগে সকলে মিলে আলোচনা করা হয়নি কেন? এ প্রসঙ্গে তাঁর দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কি সত্যিই কোনও কথা হয়নি? এই প্রশ্নের জবাবে অবাক সুরে তাঁর জবাব ‘কে দিলীপ ঘোষ? আমার সঙ্গে কেউ আলাদা করে কোনও আলোচনা করেনি। এখনও আমি দলে রয়েছি ঠিক, তবে আমার কোনও পদ নেই। এখন আমাকে সামলে নিতে বলা হচ্ছে, আমার তো কোনও দায় নেই। আমি সাধারণ সদস্য হিসেবে প্রশ্ন রেখেছি , প্রশ্নের জবাব দিক ভারতীয় জনতা পার্টি।’ ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির পাখির চোখ ছিল বাংলা। বারবার প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভোট চলাকালীন রাজ্যে এসেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন রাজ্যে ২০০-র বেশি আসন পাবে বিজেপি। কিন্তু আট দফা নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, সেই আসন ৭৮ এ থেমেছে। এই ফলাফলের পরে দলের নিচু তলার কর্মী সমর্থকদের হতাশার ছবি বারবার সামনে এসেছে। এবার তথাগত রায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতাও সামাজিক মাধ্যমে সেই ক্ষোভ তুলে ধরলেন। এখন দেখার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সত্যিই এর কোনও যোগ্য জবাব দিতে পারে কি না!

 

 

জনপ্রিয়

Back To Top