বিভাস ভট্টাচার্য: মুকুল রায়ের দলবদল ও তৃণমূল থেকে আসা কয়েকজন নেতা–নেত্রীর আচরণ থেকে শিক্ষা নিতে চায় বঙ্গ বিজেপি। ভবিষ্যতে অন্য দল থেকে আসা কোনও নেতা বা নেত্রীকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের ঘটনার কষ্টিপাথরে ফেলেই যাচাই করে নিতে চাইবে গেরুয়া শিবির। সেক্ষেত্রে কোনও তাড়াহুড়ো না করে বরং অনেক ধীর অথচ সতর্ক পদক্ষেপেই এগনো হবে। ইঙ্গিত মিলল রাজ্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যর কথায়। যেখানে নিজেদের 'আত্মসমীক্ষা'র দিকটিই তুলে ধরেছেন তিনি। 
শমীকের কথায়, 'ভবিষ্যতে অন্য দল থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে।'
শুক্রবারই বিজেপি ছেড়ে ফের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে গেছেন বিজেপি–র সর্বভারতীয় সহ সভাপতি ও কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়। এদিন তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাঁর পুত্র ও বীজপুর থেকে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী শুভ্রাংশু রায়। দু'জনেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ছিলেন দলের অন্যান্য প্রবীণ নেতারা। 
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের  পর মুকুলের প্রত্যাবর্তন যদি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া বড় নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রথম 'ঘর ওয়াপসি' হয় তবে এই তালিকায় যুক্ত হতে চেয়ে অনেকেই 'ইঁট পেতেছেন'। কেউ সরাসরি দলের নেত্রীর কাছে আবেদন করেছেন, আবার কেউ বা ফেসবুকে 'আপাতত' নিজের দল বিজেপিকে বিঁধে দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যাদের জন্য বঙ্গ বিজেপি শিবিরকে মাঝেমাঝেই প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে সেইদিক দিয়ে দেখতে গেলে শমীকের কথায় স্পষ্ট, আগামীদিনের রাজনীতিতে এই বিরম্বনা থেকে দূরেই থাকতে চাইবে গেরুয়া শিবির। যার জন্যই আত্মসমীক্ষার দিকটি তুলে ধরেছেন তিনি। কিন্তু মুকুলের এই দলত্যাগ বিজেপিতে কতটা প্রভাব পড়বে? শমীকের কথায়, 'মুকুল রায়ের হাত ধরে যে কর্মীরা বিজেপিতে এসেছিলেন তাঁরা কিন্তু বিজেপিতেই সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন।'

জনপ্রিয়

Back To Top