আজকালের প্রতিবেদন: ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বিজেপি নেতা। অভিযুক্তের নাম বাবান ঘোষ। তিনি বিজেপি–‌র মজদুর ইউনিয়নের রাজ্য সভাপতি এবং বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। রেলের একটি কমিটির সদস্য করে দেওয়ার নামে ৭৬ লক্ষ টাকা  ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তঁাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এফআইআর হয়েছে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও। সরশুনা থানায় এই ঘুষের অভিযোগ করেন সন্তু গাঙ্গুলি নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাবানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 
এই ঘটনায় দক্ষিণ–পশ্চিম ডিভিশনের উপনগরপাল নীলাঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘‌চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে থানায় অভিযোগ জানিয়ে সন্তু বলেন, তঁাকে রেলের কমিটির সদস্যপদ দেওয়ার নাম করে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা নিয়েছেন বাবান ঘোষ। তদন্ত শুরু করা হয়। এরপর বাবানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’‌ মুকুল রায় বলেন, ‘‌চক্রান্ত চলছে। আমার বিরুদ্ধে ৭০টি মামলা করা হয়েছে।’‌ এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মুকুল রায়। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি সহিদুল্লাহ মুন্সি এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পাটুলিতে বাবানের বাড়ির সামনে তঁারা অপেক্ষা করছিলেন। রাত পৌনে দু‌টো নাগাদ সে বাড়ি ঢোকার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে আদালত ২৮ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।   
এদিন আদালতে সরকারি কৌঁসুলি প্রবীর চ্যাটার্জি সওয়ালে বলেন, রেলের একটি বিশেষ কমিটিতে সন্তু গাঙ্গুলিকে স্থায়ী সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার নামে তঁার থেকে দফায় দফায় ৪৬ লক্ষ টাকা এবং পরে আরও ৩০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে অভিযোগকারীকেও ওই কমিটি সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেওয়া হয়। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষ। এগুলি পরীক্ষা করা দরকার এবং সেইসঙ্গে ধৃতকে তদন্তের স্বার্থে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া দরকার। ফলে অভিযুক্তের পুলিশি হেফাজত প্রয়োজন। 
অভিযুক্তের আইনজীবীরা সওয়ালে বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ধরা হয়েছে। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌এফআইআর অনেকের নামে হয়েছিল। পুলিশ দিয়ে এভাবে বিজেপি–‌কে আটকানো যাবে না। ৪০০ থেকে ৫০০ কার্যকর্তা জেলে আছেন। ২৮ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা মামলা লড়ব।’‌‌‌
অভিযোগকারী সন্তু গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, বাবানের সঙ্গে তঁার পরিচয় নিজাম প্যালেসে। ২০১৫ সালের পর থেকেই তঁাকে বাবান বলে রেলের বোর্ডে তঁাকে সদস্য করা হবে। এরজন্য টাকা লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে তিনি ৭৬ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বেশ কয়েকবার তিনি দিল্লিতে যান কিন্তু যখন দেখেন কিছুই হচ্ছে না তখন তিনি রেলের কয়লাঘাট অফিসে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন এটি একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং তিনি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। যেসব কাগজপত্র তঁাকে দেওয়া হয়েছিল সেগুলি সব জাল।
ধৃত  বিজেপি নেতা বাবান ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে যা বলার তঁাদের উচ্চ নেতৃত্ব বলবেন। এত পুরনো জিনিসকে কেন এরকম করা হচ্ছে?‌ আইন আইনের পথে চলবে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াতে দলের সংগঠক ছিলেন বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিন আদালতে বিজেপি–‌র পক্ষ থেকে বাবানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়।‌ ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top