স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট, ৫ মার্চ- প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আর্থিক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা দলের পদ খুইয়ে জেলে গেলেন। বিজেপি–র সদ্য প্রাক্তন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিকাশ সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রাধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতানোর অভিযোগ ওঠে। বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন দলীয় কর্মীরা। গত বছর জুন মাসে বিকাশ সিংয়ের বিরুদ্ধে বসিরহাট থানায় অভিযোগ (‌৬০৪/‌১৭)‌ দায়ের হয়। তদন্তে নামে সিআইডি। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিজেপি–র অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
তদন্তে নেমে সিআইডি–র হাতে এমন তথ্য আসে যে, অন্তত ২০ হাজার মানুষ প্রতারিত হয়েছেন বিকাশ ও তঁার সাগরেদদের হাতে। একই অভিযোগ আনা হয় বিজেপি–র বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার তৎকালীন অফিস সম্পাদক রণজিৎ পালের বিরুদ্ধে। বিকাশের এই প্রতারণার জাল থেকে দলের নিচুতলার কর্মীরাও ছাড় পাননি। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বসিরহাটে বিজেপি বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা কার্যত দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিকাশ সিং আবেদনপত্রের জন্য একেকজনের কাছ ২২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে। কারও কাছ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিজেপি–র কয়েকজন প্রথম সারির নেতার নামও উঠে আসে, যঁাদের সঙ্গে বিকাশের ঘনিষ্ঠতা ছিল।
বিকাশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি–র একটা বড় অংশ সরব হয়। এমনকী দলের রাজ্য নেতৃত্বের সামনে সাধারণ কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। প্রকাশ্যে বিজেপি–র একাধিক রাজ্য নেতা দলের নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। বিকাশের বিরুদ্ধে এতটাই ক্ষোভ জন্মায় দলের অন্দরে যে, খোদ সন্দেশখালিতে যেখানে বিকাশের বাড়ি, সেখানে লকেট চ্যাটার্জিকে সঙ্গে নিয়ে গেলে তঁাদের নৌকো থেকে নামতে দেননি স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাই। টাকিতে বিকাশ ইস্যুতে বিজেপি–র রাজ্য সম্পাদিক দেবশ্রী চৌধুরি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। হিঙ্গলগঞ্জে প্রতারিত বিজেপি কর্মীদের রোষের মুখে পড়েন খোদ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কমিউনিটি হলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। দাবি বিকাশকে সরাতে হবে।
অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বিকাশ সিং সিআইডি–র চোখে ধুলো দিয়ে চলছিলেন। যদিও তঁাকে দলের অনেক কর্মসূচিতেই দেখা যেত একেবারে প্রথম সারিতে।

রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিকাশ সিং। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top