দীপেন গুপ্ত, পুরুলিয়া, ১১ ফেব্রুয়ারি- আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এক বিজেপি নেতাকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর ধৃত ওই বিজেপি নেতাকে পুরুলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও ওই বিজেপি নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দলের তরফে নেতারা অভিযোগ করেছিলেন। পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার ঘাটবেড়া কোরোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মা গ্রামের বাসিন্দা ওই বিজেপি নেতার নাম কার্তিক গরাই। পুরুলিয়ার মফস্‌সল থানার ভাঙড়া গ্রামে গত ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভা ছিল। সেই সভা থেকে মোটর সাইকেলে ফেরার পথে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান কার্তিক। এমন দাবিই করেছিলেন তঁার স্ত্রী বন্দনা গরাই। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের  করেন। তারপর উরমা গ্রামের কাছে উদ্ধার হয় তঁার মোটর সাইকেল ও ভাঙা মোবাইল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যদিও সোমবার পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘‌ওই ব্যক্তি  অপহৃত হননি। ওইদিন নিজের মোটর বাইকটি রেখে বলরামপুর থেকে ট্রেন ধরে তিনি পুরুলিয়ায় আসেন। তারপর বাসে কলকাতায় চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পুরোটাই নাটক। তঁাকে কলকাতার একটি হোটেল থেকে পুলিশ গিয়ে ধরে নিয়ে আসে। আসলে কার্তিক একটি ব্যাঙ্কের এজেন্ট হিসাবে কাজ করতেন। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকাপয়সা নিয়ে তিনি সেই টাকা জমা করেননি। এই মর্মে পুলিশের কাছে কল্যাণ মাঝি নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। এইভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে তিনি প্রায় ১০–১২ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপরই তিনি অপহরণের নাটক করেন। আমরা ঘটনার তদন্তে নেমে পুরো বিষয়টি জানতে পারি।’‌ ঘটনার দিন জেলার বিজেপি নেতারা রাজ্যের শাসক দল ও পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এদিন পুলিশ কার্তিককে গ্রেপ্তার করে তঁাকে আদালতে তোলে। ঘটনার দিন তৃণমূলের নেতারা পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, তঁারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। তদন্ত হলেই আসল ঘটনা সামনে উঠে আসবে। তদন্তে সেই ঘটনাই উঠে আসায় বিজেপি নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

ধৃত বিজেপি নেতা কার্তিক গরাই। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top