আজকালের প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর- আলোচনা আছে এই বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে কার্যত জোর করে গাড়িতে তুলে সোজা বিজেপি–র জেলা কার্যালয়ে। অভিযোগ সেখানে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে বিজেপি–তে যোগ দিতে বাধ্য করানো হয় এক তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে। রবিবার গভীর রাতে বিজেপি–র ডেরা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে বিকেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খড়্গপুর–২ ব্লকের মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য চন্দন রায়কে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী।
তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে অপহরণের অভিযোগে পুলিশ প্রদীপ চৌধুরি নামে এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। চন্দনকে উদ্ধার করে খড়্গপুর গ্রামীণ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জানান, রবিবার বিকেলে তঁারই এক পরিচিতর মোবাইল থেকে ফোন করে একটু কথা আছে বলে ডাকা হয়। তিনি সেখানে যেতেই কিছু না বলে মোহনপুর চকে দঁাড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে তঁাকে জোর করে তুলে দেওয়া হয়। চিৎকার করলে ফল ভাল হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আতঙ্কে গাড়ির মধ্যে বসে পড়েন। ওই গাড়িতে থাকা বিজেপি কর্মী প্রদীপ চৌধুরি জানান, তঁাকে ভাল জায়গাতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেখানে ভাল করে শ্বাস নিতে পারবেন।‌ এর পর তঁাকে ধর্মায় একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কিছুক্ষণ পর মেদিনীপুরে বিজেপি–র জেলা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তঁাকে কী কী বলতে হবে তাও আগে থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল।  চন্দন বলেন, ‘‌‌ওরা বলে কথা না শুনলে পরিবারের বিপদ হতে পারে। এই ভয়ে তঁারা যা যা বলেছেন, সেভাবেই সব কিছু করেছি। এর পর বিজেপি–র জেলা সভাপতি শমিত দাস তঁাদের দলীয় পতাকা আমার হাতে তুলে দেন। সেখানে আমাকে বলতে বাধ্য করা হয়, ‌দলের কিছু নেতা–কর্মী স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছিলেন না বলেই আমি তৃণমূলে ছেড়ে বিজেপি–তে যোগ দিলাম।’‌ 
এদিকে রাত ১১টার পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তঁার বাড়ির লোকেরা। বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হন তঁারা। মোবাইলের সুইচ অফ ছিল। বাধ্য হয়ে বাড়ির লোকজন তৃণমূল নেতাদের বিষয়টি জানান। তঁারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানান। গভীর রাতে পুলিশ হানা দেয় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে খড়্গপুর গ্রামীণের জিনশহরে বিজেপি–র পার্টি অফিসে। পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে বিজেপি নেতা–কর্মীরা পিকনিক করেছেন। পার্টি অফিসের ভেতরে এককোণে বসে আছেন তৃণমূলের চন্দন রায়। তখন তঁাকে উদ্ধার করা হয়। বিজেপি কর্মীরা প্রথমে পুলিশকে বাধা দেন। পুলিশ তঁাদের সরিয়ে চন্দনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
তঁার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এক বিজেপি কর্মীকে। তৃণমলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি জানান, এভাবেই একের পর এক পঞ্চায়েত সদস্যকে জোর করে নিজেদের দলে যোগ দেওয়াতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি–র জেলা সভাপতি শমিত দাস জানান, ওই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য স্বেচ্ছায় বিজেপি–তে এসেছেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top