বিজয়প্রকাশ দাস: তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করার অভিযোগে ৩ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করল গলসি থানার পুলিশ। গলসি ২ নম্বর ব্লকের ভুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুবোধ ঘোষের বাড়িতে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। তৃণমূল নেতার বাড়িতে এই সশস্ত্র হামলার ঘটনায় মোট ১১ জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে গলসি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুশান্ত বৈরাগ্য, মিঠুন বিশ্বাস ও তারক মির্দা নামে ৩ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্ত ৯ জন পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় ওই অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজেপি কর্মীদের ওই তাণ্ডবে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে এক তৃণমূল কর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই মারধরের ঘটনা নিয়ে উপপ্রধান সুবোধ ঘোষ–সহ অন্যরা গলসি থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীরা। ঠিক সেই সময়ই ওই বিজেপি কর্মীরা সুবোধবাবুর বাড়িতে আক্রমণ করে। তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তঁার বাড়িতে তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়েছিলেন উপপ্রধানের স্ত্রী মাধবী ঘোষ, ছেলে স্কুল শিক্ষক সুমন ঘোষ এবং বউমা নিবেদিতা ঘোষ। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা তঁাদের সকলকে মারধর করে বলে অভিযোগ। এই খবর থানায় বসেই পান সুবোধবাবু। তিনি বাড়ি ছুটে এসে দেখেন, বিজেপি কর্মীরা তঁার গোটা বাড়ি তছনছ করে গিয়েছে। তঁার পরিবারের প্রত্যেককেই কম–বেশি মারধর করা হয়েছে। পরিবারের সকলেই রীতিমতো আতঙ্কিত। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর ফের গলসি থানায় যান উপপ্রধানের স্ত্রী। তিনি ১১ জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তিনজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। যদিও উপপ্রধানের বাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে গলসির বিজেপি নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে তঁাদের বক্তব্য, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top