যজ্ঞেশ্বর জানা, তমলুক, ১১ নভেম্বর- মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনে স্বজনপোষণ ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি–র তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতির অপসারণের দাবি তুললেন দলেরই একাংশ। সোমবার দুপুরে তমলুকের কাকগেছিয়াতে জেলা বিজেপি–র কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ–অবস্থানে বসে পড়েন বিজেপি–র কয়েকশো নেতা–কর্মী। তমলুক জেলা বিজেপি–র সভাপতি নবারুণ নায়কের বিরুদ্ধে তঁাদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন করিয়েছেন তিনি। যঁাদের সভাপতি করা হয়েছে, এলাকায় তঁাদের কোনও পরিচিতি নেই। নেই সাংগঠনিক দক্ষতাও। এতে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হচ্ছে। জেলা সভাপতির অপসারণের দাবি তুলে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান।
জানা গেছে, জেলার তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের আটটি বিধানসভা এলাকায় বিজেপি–র ৪১টি মণ্ডলের সভাপতি নির্বাচন হয়েছে কিছুদিন আগে। অভিযোগ, যা মোটা টাকার বিনিময়ে করেছেন তমলুক জেলা বিজেপি–র সভাপতি নবারুণ নায়ক। ময়না মণ্ডল বিজেপি–র প্রাক্তন সভাপতি উত্তম জানার নেতৃত্বেই এদিন এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। উত্তম বলেন, ‘‌জেলা সভাপতি টাকা নিয়ে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন করেছেন। যে যত বেশি টাকা দিয়েছে, তাকেই পদে বসিয়েছেন। তাই স্বচ্ছতা ফেরাতে আমরা এই জেলা সভাপতির অপসারণ চাই।’‌ ২১ জনের জেলা কমিটি তৈরির ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। যদিও এদিন দুপুরের এই ক্ষোভ–বিক্ষোভের ধারেকাছে দেখতেই পাওয়া যায়নি বিজেপি–র তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুণ নায়ককে। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‌দলীয় কাজে কলকাতায় দলের রাজ্য অফিসে এসেছি। রাজ্য নেতৃত্ব মণ্ডল সভাপতি নির্বাচন করেছেন। আমার বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ভুল। যঁারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তঁারা বিজেপি–র লোক নন।’‌
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি চিত্তরঞ্জন মাইতির বক্তব্য, ‘‌বিজেপি–র লোকেরা নেতা হওয়ার লড়াই করছেন। সারা বাংলায় বিজেপি–র অন্দরে এমন ক্ষোভ–বিক্ষোভ চলছে। তাই পদ নেওয়া, নেতা হওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে তঁাদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া–অশান্তি করে শেষ হবে দলটা।’‌

দলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মীদের। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top