চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিনিকেতন: দোলের দিনেই বসন্ত উৎসব করার আর্জি জানিয়ে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা চাইল বিশ্বভারতী। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জিকে লেখা এক চিঠিতে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অধ্যাপিকা আশা মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, গত বছর বসন্ত উৎসবে আড়াই লক্ষ মানুষের ভিড় হয়েছিল। সেই ভিড় সামলাবার ক্ষমতা নেই বিশ্বভারতীর মতো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। তাই শান্তিনিকেতন–‌প্রিয় বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক ও প্রশাসনিক সাহায্য চাওয়া হয়েছে। 
চিঠিতে কর্মসচিব আরও জানিয়েছেন, গত বছর বসন্ত উৎসব শেষ হওয়ার পর আশ্রম চত্বর থেকে ৩৫ ব্যাগ মদের বোতল ও ১০ ট্রাকেরও বেশি আবর্জনা অধ্যাপক, কর্মী ও পড়ুয়াদের পরিষ্কার করতে হয়েছিল। তাই দোলের দিন বসন্ত উৎসব রাজ্য সরকার দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করুন। বিশ্বভারতী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়টা দেখবে। শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া এই চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে এসআরডিএ–র চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলকেও।
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌দোলের দিন বসন্ত উৎসব যাতে হয় সে নিয়ে উপাচার্যকে ফোনেই বলেছিলাম। এটা বাঙালির আবেগ। তাই সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছিলাম।‌ চিঠিতে কর্মসচিব যে–‌আবেদন করেছেন সেই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যেহেতু বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারেরও দায়বদ্ধতা থেকে যায়। পৌষমেলা, বসন্ত উৎসবের মতো অনুষ্ঠান শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশ শুধু নয়, বিদেশ থেকেও বহু মানুষ এখানে আসেন। সব দিকটাই মাথায় রাখতে হবে।’‌ চিঠি প্রসঙ্গে এসআরডিএ–র চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‌বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কছে যে আবেদন করেছে তা নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখবে রাজ্য সরকার। বীরভূম জেলা পরিষদেরও যদি কিছু করার থাকে তারাও বিষয়টি দেখবে।’‌ 
বসন্ত উৎসবের ভিড় ভয় পাইয়ে দিয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। তাই দোলের দিন বসন্ত উৎসব না করার প্রস্তাব আাবারও সামনে এসেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তি, রবীন্দ্রনাথের ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৭ সালে বসন্ত পঞ্চমীর দিনে এই ঋতু উৎসবের সূচনা করেছিলেন। পরে এই উৎসব শুরু হয় দোলের দিন। মাঝে এই উৎসব অশান্তির জেরে বন্ধ ছিল কয়েক বছর। অধ্যাপক নিমাইসাধন বসু উপাচার্য থাকার সময় ফের দোলের দিন শুরু হয় বসন্ত উৎসব। তার পর থেকে ভিড় বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আম্রকুঞ্জ থেকে গৌর প্রাঙ্গণ হয়ে ভিড়ের চাপ এড়াতে আশ্রম মাঠে চলে আসে বসন্ত উৎসব। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী অবশ্য গতবারের পরিস্থিতি দেখে দোলের দিন বসন্ত উৎসব না করার প্রস্তাবে সই দিয়েছিলেন। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব আসতে দোলের দিনেই বসন্ত উৎসব করার উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top