দীপেন গুপ্ত, পুরুলিয়া: রাত থেকেই জেগেছিলেন গোটা গ্রামের মানুষ। শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের ভেতরে ভারত–তিব্বত সীমান্ত পুলিশের গাড়ির শব্দ পাওয়া মাত্র কনকনে শীতে গোটা গ্রামের মানুষ বেরিয়ে পড়লেন রাস্তায়। গ্রামের ছেলেকে একবার শেষ দেখা দেখতে সাত বছরের ছোট শিশু থেকে সত্তর বছরের বয়স্ক মানুষ সব্বাই বেরিয়ে পড়লেন। গোটা গ্রামের মহিলারা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সহকর্মীর গুলিতে নিহত জওয়ান বিশ্বরূপ মাহাতোর মরদেহ নিয়ে সহকর্মীদের গাড়ি থামতেই দাদা আশিস, বাবা ভীমচন্দ্র মাহাতো তাকিয়ে কেঁদে ফেললেন। গোটা গ্রামের মানুষের ভিড়ে নামানো হল দেহ। চারিদিকে শুধু কান্নার আওয়াজ।
ছত্তিশগড়ে কর্মরত ছিলেন বিশ্বরূপ। সেখানেই ৪ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় বিশ্বরূপের। শুক্রবার সকালে দেহ গ্রামে নিয়ে আসা হয়। এদিন সকালে পুরুলিয়ার আড়শা থানার খুকড়ামুড়া গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ বিশ্বরূপের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন। গ্রামের অদূরে ফুটবল ময়দানে বিশ্বরূপের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবারের আত্মীয়দের কাঁধে। সেখানে কফিনের সঙ্গে সঙ্গে গোটা গ্রামের ছেলেমেয়ে–সহ বয়স্করাও গিয়ে জমায়েত হন। গোটা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে যান পরিবারের বড় দাদা, ভাই–সহ আত্মীয়রা। সহকর্মীরা বিশ্বরূপকে গার্ড অফ অনার দেন। জাতীয় পতাকা দেহ থেকে তুলে তাঁর বাবার হাতে তুলে দেন ভারত–তিব্বত সীমান্ত পুলিশের এক আধিকারিক। 
রাঁচি থেকে দেহ নিয়ে আসা কমান্ডার রবীন্দ্র কুমার বলেন, ‘‌ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পরিবারের লোকজন যাতে সরকারি নিয়মে দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান, তা ভারত–তিব্বত সীমান্ত পুলিশ করবে।’‌ এদিন ‌বাবা ভীমচন্দ্র মাহাতো বলেন, ‘‌কালীপুজোর সময় এসেছিল, ৩ নভেম্বর বাড়ি থেকে গিয়েছিল। এভাবে দেহ আসবে তা কখনও ভাবিনি। বছর চার আগে যোগ দিয়েছিল ভারত–তিব্বত সীমান্ত পুলিশে। প্রথমেই রাজস্থানে, তারপর ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে ছিল। এদিন বিশ্বরূপের মা বার বার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের মারা যাওয়ার খবরের পর থেকেই তিনি কেঁদে চলেছেন। এদিন পুরুলিয়ার বিজেপির সাংসদ জৌতিময় সিং মাহাতো বিশ্বরূপের দেহ সম্মান জানানোর পাশাপাশি কাঁধে দেহ নিয়ে যান ফুটবল মাঠ পর্যন্ত।

গ্রামে ফিরল বিশ্বরূপের কফিনবন্দি মরদেহ। ছবি: প্রতিবেদক   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top