কল্যাণ ব্যানার্জি ও সমরেন্দ্র মিত্র: ছুটে চলেছেন সারাটা দিন দুরন্ত গতিতে। এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে। অনুন্নয়নের তকমাকে সরিয়ে ফেলে বিষ্ণুপুরকে ঢেলে সাজাবার সঙ্কল্প নিয়ে। পৈলান হাটে নিজের বাড়িতে বসে ৪টি প্রশ্নের জবাব দিলেন তৃণমূলের তিনবারের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল।
তিনবারের বিধায়ক আপনি, কতটা এগোলেন?‌
মা,–‌মাটি ও মানুষের আশীর্বাদে আজ বিষ্ণপুরকে নতুন রূপ দেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর। আমার এলাকায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় উন্নয়নমূলক কাজ করা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। বিষ্ণুপুরকে ঢেলে সাজাবার কাজে আমার সাংসদ আমার সঙ্গী। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে মন্ত্রী হতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রশ্ন:‌ বিষ্ণুপুরে আপনাদের মূল প্রতিপক্ষ কে?‌
উত্তর:‌ বিষ্ণুপুরে আমাদের মূল প্রতিপক্ষ এখনও বামেরাই। বাংলায় সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনও জায়গা নেই। মন্দির–‌মসজিদের রাজনীতি এখানে চলবে না। বাঙালিরা ধর্মনিরপেক্ষ ও সহিষ্ণু। আসলে দেশভক্ত।
প্রশ্ন:‌ একাধিক ফৌজদারি মামলা আপনাকে নিয়ে। কী বলবেন?‌
উত্তর:‌ এটা আমার প্রতি বাম আমলের এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।  সেই সময় মানসিক দিক দিয়ে আমাকে বিপর্যস্ত করবার সব চেষ্টাই হয়েছে। তবুও, ওরা আমাকে থামাতে পারেনি। ৪টি মিথ্যা ফৌজদারি মামলা আমার বিরুদ্ধে। বামেরা যখন মধ্য গগনে, সেই ২০০১ সালে, বিষ্ণুপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে তৃণমূল জয়লাভ করে। সেই প্রথম আমার বিধায়ক হওয়া।
প্রশ্ন:‌ উন্নয়ন নিয়ে কিছু বলবেন?‌
উত্তর:‌ উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই তো এত ছোটাছুটি। মেদিনীপুর ভাগ হওয়ার পর রাজ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সবচেয়ে বেশি তফসিলি মানুষের বসবাসও এখানে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে আনতেই হবে। গোটা বিষ্ণুপুরে বিগত বাম আমলে কোনও উন্নয়নই হয়নি। স্রেফ রাজনীতি হয়েছে। আমরা সড়ক ও যাত্রী পরিবহণের ওপর বাড়তি নজর দিয়েছি। নতুন বাসরুট চালু করেছি। জেলা পরিষদের অধীনে এক ডজন রাস্তা তৈরি হচ্ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আর্সেনিক আক্রান্ত বেশিরভাগ গ্রামগুলি আজ ‘‌সজল ধারা’‌ প্রকল্পে যুক্ত। সবজি ও মাছ চাষীদের জন্য যা যা প্রয়োজন, সেটা করার চেষ্টা করছি। প্রাথমিক স্কুলগুলিকে হাইস্কুলে রূপান্তরিত করার কাজ এগোচ্ছে। রাস্তা তৈরির কাজ হচ্ছে, তবে এতে আরও গতি আনতে হবে। আরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে ‘‌কন্যাশ্রী’‌, ‘‌যুবশ্রী’‌ ও ‘‌সবুজসাথী’‌–‌র আওতায় আনতে হবে। বার্ধক্যভাতা যাতে সবাই পায়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য আছে।
প্রশ্ন:‌ বিষ্ণুপুরে শিল্প আনতে কতটা উদ্যোগী আপনি?‌
উত্তর:‌ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে শিল্পযোগ্য জমির আয়োজন করা যেতে পারে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ দিতে পারব, এমন বিশ্বাস আমার আছে। অন্তত ৩ হাজার শ্রমিক কাজ করে সেঞ্চুরি প্লাইবোর্ডে। একদিনের জন্যও কারখানার চাকা বন্ধ হয়নি। না, বলতে হয় না, এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট ওরা। আশা রাখি, আগামী দিনে সেঞ্চুরি প্লাইবোর্ড তাদের উৎপাদন ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। আসলে, শিল্প এনে দেয় রাজস্ব, কর্মসংস্থান, এলাকার উন্নয়ন, সুযোগ ও সমৃদ্ধি। শিল্প ছাড়া গতি নেই।   ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top