বুদ্ধদেব দাস,ঘাটাল: মূর্তি ভাঙায় ক্ষোভে ফুঁসছে বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহ। ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামের মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। বুধবার বিকেলে ঘাটাল কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ডে প্রতিবাদ–‌সভা হয়। কুশপাতা বাস স্টপ থেকে সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি অরাজনৈতিক প্রতিবাদ–‌মিছিলের আয়োজন করে ঘাটাল যুক্তিবাদী সংগঠন। 
বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙায় অপমানিত বীরসিংহের প্রতিটি পরিবার। বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী পালনের তোড়জোড় চলছে রাজ্য জুড়ে। ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এখানেই জন্ম বিদ্যাসাগরের। দীর্ঘ দিন এখানকার মানুষ বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে ও সংগ্রহশালা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রতিদিনই এখানে আসেন। তঁার ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল, জুতো, ছাতা, বই— সব সাজানো রয়েছে। 
বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেয় বিদ্যাসাগর স্মৃতি মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই ঘটনা খুবই লজ্জাজনক। ওষুধ ব্যবসায়ী গৌতম বক্সি বলেন, ‘‌আমরা সর্বস্তরের মানুষ দল–মত নির্বিশেষে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’‌ বীরসিংহ গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘাটাল কলেজের অধ্যাপক প্রসাদ ঘোষ জানান, এই ঘটনার নিন্দা করার ভাষা নেই। ন্যক্কারজনক। কোলাঘাট কোলে ইউনিয়ন হাই স্কুলের শিক্ষিকা এবং গ্রামের বাসিন্দা নবনীতা ঘোষ জানান, ‘‌যারা মূর্তি ভেঙেছে তারা একটু হলেও পড়াশোনা জানে। তারা কি অন্ধ?’‌ বীরসিংহের বাসিন্দা অনিকেত চক্রবর্তীর কথায়, ‘‌এর পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ঘটনা ভাবতেও পারছি না।’‌ 
ঘাটালের বুদ্ধিজীবী মহল তীব্র নিন্দা করেছে এই ঘটনার। বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা সমিতির ঘাটাল শাখার সম্পাদক তাপস পোড়েল–সহ সভাপতি গৌরীশঙ্কর বাগ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দা করে জানান, ‘‌সংস্কৃতি কতটা নীচে নেমেছে, ভাবা যায় না।’‌ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক প্রশান্ত সামন্ত বলেন, ‘‌ফ্যাসিস্ট কাজের মতো এই ঘটনার নিন্দা করার মতো ভাষা পাচ্ছি না। যারা এর সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করা উচিত।’‌ বিদ্যাসাগর স্কুলের শিক্ষক  শিক্ষক দুলাল কর জানান, ‘‌এই ঘটনা লজ্জাজনক। মনীষীর মূর্তি–‌ভাঙা সংস্কৃতিকে মেনে নেওয়া যায় না। যেই করুক, তীব্র প্রতিবাদ প্রয়োজন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top