সব্যসাচী সরকার: পূর্ব মেদিনীপুরের দাসপুরের স্বর্ণব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বাসিন্দা মোতামারি আপ্পানা বীররাজুর দুটি বাড়িতে সিআইডি তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ধনসম্পত্তির হদিশ পেয়েছে। এই সম্পত্তির মালিক তিনি একা, নাকি তাঁর পরিবারের অন্য কেউ?‌ মঙ্গলবার কলকাতার তিনটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় সিআইডি। পাওয়া গেছে নতুন নোটের ৫০০ ও ১০০ টাকায় মোট ২ কোটি ৪০ লাখ। এই নিয়ে মোট ৩ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হল। সিআইডি–‌র ডিআইজি (‌অপারেশনস) নিশাত পারভেজ জানান তল্লাশি চলছে। অন্য রাজ্যেও দল পাঠানো হয়েছে।‌ এই বীররাজু প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষের স্বামী। তাঁর অভিযোগ এটি চক্রান্ত। তিনি সিআইডি তল্লাশির ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। মঙ্গলবারও সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাদুরদহের আবাসনে ফের তল্লাশি চালায় সিআইডি। স্থাবর–অস্থাবর মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। যদিও যাঁর বাড়িতে তল্লাশি, সেই এমএভি রাজু সম্প্রতি সিআইডির বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তিনি গত বছরই ৮ লক্ষ ৩ হাজার ১৮০ টাকা আয়কর জমা দিয়েছেন। নিয়ম বিরুদ্ধ তল্লাশি হয়েছে।
তল্লাশিতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে— ২২ সোনার হার, ৫ সোনার আংটি। গণেশ, লক্ষ্মী, বালাজির সোনার মূর্তি, ৭ মোবাইল, ২টি ট্যাব ও ৩ ল্যাপটপ। ২২টি জমির দলিল (‌কলকাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর, সোনারপুর, বীরভূম, ইলমবাজার, বোলপুর, জয়নগর, ঝাড়গ্রাম, কসবা)‌। এ ছাড়াও সিআইডি যে দুটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে, সেখানে মিলেছে অজস্র দামি গৃহসজ্জা ও অন্যান্য সামগ্রী। নগদ ৩ কোটি টাকা এবং ২ কেজি সোনার গয়না। সিআইডি জানায়, গোটা তল্লাশির ভিডিওগ্রাফি করা আছে। মঙ্গলবার দরজা, আলমারি ভেঙে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে কাজ হয়েছে। এর আগে বহু জমির দলিল পাওয়া গেছে। সিআইডি–র সন্দেহ অন্য রাজ্যেও নির্দিষ্ট জায়গায় ধন সম্পত্তি রয়েছে। ধৃত কেয়ারটেকার রাজমঙ্গল সিংকে জেরা করেই মঙ্গলবার কোটি কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। অন্যদিকে সিআইডি–র বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মঙ্গলবার। 
সিআইডি কর্তারা বলছেন, এখনও পর্যন্ত তদন্তের অভিমুখ অনুযায়ী বহু জমির দলিল মিলেছে। জমিগুলি ২০১৪, ’‌১৫, ’‌১৬, ’‌১৭ সালে কেনা অথবা চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়াও কলকাতার ঠিকানার বাড়িতে তল্লাশিতে পাওয়া গেছে একটি গাড়ি, টিভি, প্রতিটি ঘরেই এসি মেশিন। এ ছাড়াও মিলেছে বড় গণেশ ও লক্ষ্মীর মূর্তি, ট্রেড মিল এবং অজস্র ছোট ও বড় ফ্যান। সোনা–গয়নার মধ্যে গলার চেন ছাড়াও কানের দুল, আংটি এবং রিস্টলেট পাওয়া গেছে। বিপুল সোনার গয়নার বিষয় নিয়ে তদন্তকারীরা দেখছেন, কোন সময়ে এগুলি কেনা হয়েছিল। যাঁর বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে তিনি নিজেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বলে দাবি করেছেন। একসময় ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জে উচ্চপদে চাকরি করতেন। সিআইডি সূত্রে পাওয়া সিজার লিস্টে একেবারে আধুনিক ও দামি বহু মোবাইলের নাম রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, সিআইডি–র প্রশ্ন একজন উচ্চপদে থাকা বেতনভুক কর্মী এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কীভাবে করে ফেললেন। আপাতত যে জমির দলিল পাওয়া গেছে সেগুলির মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি যা, প্রয়োজনে ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার আশপাশের কয়েকটি জেলাতেও তদন্তের প্রয়োজনে যাবে সিআইডি।

জনপ্রিয়

Back To Top