গৌতম চক্রবর্তী- রাস্তার উন্নয়নের দাবি নিয়ে গত কয়েক বছরে ভাঙড়ে কম আন্দোলন হয়নি। কখনও রাস্তা অবরোধ আবার কখনও যানবাহন পরিষেবা বন্ধ। কখনও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তো কখনও রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ। সেই সময় থেকেই প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, রাস্তার উন্নয়নের কাজ হবে। আর এখন ভাঙড়ে নীরবে–নিঃশব্দে ঘটে চলেছে রাস্তার উন্নয়ন। একের পর এক ভাঙড়ের রাস্তার কাজের সংস্কার করছে পূর্ত দপ্তর। গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও করা হচ্ছে।
ভাঙড়ের প্রশাসন সূত্রে খবর, ভাঙড় থেকে লাউহাটি পর্যন্ত ৯১ বাস রুটের দীর্ঘ ১৫ কিমি রাস্তা তৈরি হচ্ছে ৫২ কোটি ৯২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫৮৪ টাকা খরচে। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার পিচ উঠে গিয়েছিল। খানাখন্দে ভরে গিয়েছিল রাস্তা। এক ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এখন সেই রাস্তা ভোল পাল্টাচ্ছে। ঝাঁ–চকচকে হাইওয়ের মতো রাস্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এই রাস্তা তৈরি হয়ে গেলে উপকৃত হবেন ভাঙড়ের কয়েক লক্ষ মানুষ। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ভাঙড়ের পাকাপোল থেকে বোয়ালঘাটা ৯ কিমি রাস্তা প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচে ঝাঁ–চকচকে করে তৈরির কাজ চলছে। রাস্তার দু’পাশে পাথর দিয়ে বাঁধিয়ে কোথাও কংক্রিটের ঢালাই আবারও কোথাও পিচ দিয়ে চলছে রাস্তার কাজ। কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে। ভোট ঘোষণার আগেই এই কাজের সূচনা হয়েছিল। অন্যদিকে, বাসন্তী রাজ্য সড়কের ভোজেরহাট বাজার থেকে হাতিশালা পাকাপোল হয় শিখরপুর পর্যন্ত ৯ কিমি রাস্তা ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং শোনপুর থেকে গাবতলা পর্যন্ত বাগজোলা খালপাড়ের ৬ কিমি রাস্তার কাজও খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানা গেছে। ভাঙড়–২ নং ব্লকের বিডিও কৌশিককুমার মাইতি জানান, ভাঙড়ের ৩ প্রান্তে তিনটি বড় রাস্তার সংস্কারের কাজ চলছে। নবরূপে আত্মপ্রকাশ করবে ওই রাস্তাগুলি। কাজ শুরু করছে পূর্ত দপ্তর। জোরকদমে রাস্তার কাজ চলছে। জেলা পরিষদ সদস্য নান্নু হোসেন বলেন, ‌রাজ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকার আসার পর ভাঙড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ভাঙড়ের বড় রাস্তার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নও করা হচ্ছে। ঝাঁ–চকচকে রাস্তা তৈরি হতে দেখে খুশি ভাঙড়ের মানুষ।

ভাঙড়ে এভাবেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক ঝাঁ–চকচকে রাস্তা। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top