গৌতম চক্রবর্তী: ভাঙড়ের হাড়োয়া রোড। ঝাঁ–চকচকে মসৃণ রাস্তা। দ্রুত গাড়ি ছুটছে। সবুজে ঘেরা রাস্তায় বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের দিকে যেতে গিয়ে প্রথমেই পোলেরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যালয়। একটু এগোতেই সেই পুকুর। বছর ২ আগে এই পুকুরের সেই দৃশ্যের কথা সবার মনে আছে। বিদ্যুৎ স্টেশন নিয়ে আন্দোলনের চরম দিনে একের পর এক পুলিশের গাড়ি এই পুকুরেই ফেলে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সে সব অতীত। গ্রামের মানুষ এখন আর সে সব মনে রাখতে চান না। তবে ভোল পাল্টেছে পুকুরের। পাড় বাঁধানো। এক সময় সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ডুবে থাকত পুকুরের ধার। এখন বিদ্যুতের আলো রাস্তার চারিদিকে। সাবস্টেশনের দৌলতেই গ্রামের এই উন্নয়ন। স্বীকার করলেন সেই আন্দোলনকারীরাই।
কাউন্টডাউন‌ পর্ব শেষ। পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে ভাঙড়ের ৪০০/‌২২০ কেভি রাজারহাট–ভাঙড় জিআইএস বিদ্যুৎ সাবস্টেশন। রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ এই সাবস্টেশনের বিদ্যুতেই উপকৃত হচ্ছেন। ভাঙড়–সহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে লো ভোল্টেজের সমস্যা। উধাও বিদ্যুতের ওঠা–পড়ার সমস্যাও। শুধু তাই নয়, এবার শারদ উৎসবেও সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সল্টলেক, নিউ টাউন–সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের চাহিদা মিটিয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেশী বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রিতেও সাহায্য করছে এই সাবস্টেশন। বসিরহাট, মিনাখাঁ, বারাসত, গঙ্গানগর, রাজারহাট, কসবা, নিউ টাউন, সল্টলেক–সহ ভাঙড় ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ হচ্ছে সাবস্টেশনের বিদ্যুতে। ২ জেলা ও শহরের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভাঙড়ের এই সাবস্টেশন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ভাঙড়ের টোনা মৌজায় মাছিভাঙা গ্রামে প্রায় সাড়ে ১৩ একর অধিগৃহীত জমির ওপর এই সাবস্টেশন তৈরি হয়েছে। এই জমি অধিগ্রহণের জন্য ২৪৬ জন জমি মালিককে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সাড়ে ১৯ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছে সরকার। ভবিষ্যতে রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেই এই বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। গত ২ বছর ধরে অনেক বাধা–বিপত্তি পেরিয়ে তা এখন সার্থক রূপ নিয়েছে। জেলাশাসক পি উলগানাথন জানান, ভাঙড়ের বিদ্যুৎ সাবস্টেশনটি পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। সংলগ্ন এলাকায় উন্নয়নের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। সরকার ৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে ওখানকার গ্রাম ও মানুষের উন্নয়নে। বিশেষত মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের ভূগর্ভস্থ লাইন ও ওভারহেড লাইন টানার কাজ শেষ হয়েছে। বিহারের পূর্ণিয়া থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। আর কোনও অশান্তি নেই। সাবস্টেশন কাজ শুরু করেছে। গ্রামে গ্রামে ঢালাই রাস্তা তৈরি করেছে সরকার। মাছিভাঙা, টোনা, পদ্মপুকুর, ঢিবঢিবা প্রভৃতি গ্রামের বড় রাস্তা ও ভিতরের রাস্তাতেও বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। পানীয় জলের সমস্যার সমাধানেও সচেষ্টা সরকার। এছাড়া টোনাতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সেখানে কয়েকটি বেডের হাসপাতালও মঞ্জুর করেছে সরকার। সরকারের সদর্থক ভূমিকায় খুশি সেই আন্দোলনকারীরাও।

জনপ্রিয়

Back To Top