গৌতম চক্রবর্তী: একবার নয়। দু’‌দুবার তিনি ‘‌কৃষকরত্ন’‌ পুরস্কার পেয়েছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বাক্ষরিত দুটি শংসাপত্র রয়েছে তাঁর ঘরে। খুব সুন্দর ও অল্প সময়ে বেশি পরিমাণ ফসল উৎপাদন করে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। দেশের দরবারে রাজ্যের কৃষির উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এই কৃষক। বর্ধমান জেলায় কৃষি বিষয়ক আলোচনাসভায় তাঁর ডাক পড়েছিল। এমনকী মহারাষ্ট্রেও কৃষি নিয়ে এক আলোচনাসভায় তিনি যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তাঁর উৎপাদিত ফসলের চাহিদা ক্রেতাদের কাছে প্রচুর। কেউ কেউ আগে থেকে টাকা দিয়েও তাঁর জমির ফসল কিনে রাখেন। বাজারে নিয়ে গেলে আগেই তাঁর ফসল বিক্রি হয়ে যায়। কঠোর পরিশ্রম এবং ফসলের প্রতি যত্ন ও পরিচর্যা করাই তাঁর চাষের সাফল্যের মূল চাবি কাঠি। ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়ার বাসিন্দা সেই ‘‌কৃষকরত্ন’‌ আবদুস সামাদ মোল্লা এবার লোকসভা ভোটে তাঁর কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন। তাই তিনি এই নির্বাচনে পুরস্কার হিসেবে ভোট দিতে চান মুখ্যমন্ত্রীর দলকেই। ভোটে তাঁর পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে তৃণমূলই।
ভাঙড়–২ নং ব্লকের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে চাষ করতে করতে আবদুস সামাদ বলছিলেন, ‘‌যে পরিমান যত্ন নিয়ে চাষ করি। দ্রুততার সঙ্গে ফসল ফলাই। সেই পরিমান দ্রুততার সঙ্গেই রাজ্য সরকার কৃষকদের কৃষিকাজে সাহায্য করে। কৃষির উন্নয়ন করে। তাই এই সরকারের বিকল্প কেউ হতে পারে না। কেন্দ্রের সরকার সারের দাম বাড়িয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। আর রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের পেনশনের কথা ভেবেছে। ভেবেছিলাম বয়েস হয়েছে, চাষবাস ছেড়ে দেব। কিন্তু না, সরকারের এভাবে এগিয়ে আসাতে চাষের কাজ ছেড়ে দিতে মন চাইছে না। বরং উৎসাহিত হয়েছি।’‌ সত্তরোর্ধ্ব সুঠাম দেহের কৃষক আবদুস সামাদের প্রায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে ভাঙড়ে। সেই জমিতেই তিনি বোরো, আমন ধান, কলা, কপি, উচ্ছে, বুলেট লঙ্কা, পেঁপে চাষ করেন। এখন বুলেট লঙ্কা চাষ করে ভালই আয় করছেন। তাঁর মতে, সব খরচ বাদ দিয়েও ৬০ হাজার টাকা লাভ থেকে যায় এই লঙ্কা চাষে। ৬ মেয়ে ও ২ দুই ছেলে নিয়ে আবদুসের সংসার। নাতি ও নাতনি রয়েছে তাঁর। চাষের কাজে তারাও এগিয়ে এসেছে।                        

 

নিজের খেতে আবদুস সামাদ মোল্লা। ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়াতে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top