যজ্ঞেশ্বর জানা, ভগবানপুর: গেরুয়া সন্ত্রাস অব্যাহত পূর্ব মেদিনীপুরে। বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষে উত্তপ্ত ভগবানপুর। তৃণমূলের অভিযোগ, ভগবানপুর ১ ব্লকের বিভীষণপুর অঞ্চলের জাগতিতলা বাজারে এদিন সন্ধেয় তাদের জনসংযোগ মিছিল লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়তে থাকে বিজেপি–র মাস্কেট বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তারপর থেকেই চড়ছিল পারদ। সেই ঘটনাক্রম থেকেই মাঝরাতে ফের বিজেপি দুষ্কৃতীরা সন্ত্রাস শুরু করে বলে অভিযোগ। লাগাতার বোমাবাজির পাশাপাশি অভিযুক্তরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় জাগতিতলা বাজারের দুটি তৃণমূল কার্যালয় ও তিন তৃণমূল সমর্থকের দোকানে। ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে বলে দাবি করা হয়েছে বিজেপি–র তরফে।  এদিকে বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকার তোটানালা–শিউলিপুর রাস্তায় অবরোধ–বিক্ষোভে শামিল হয় তৃণমূল। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং অবরোধ তুলে দেয়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কাঁথির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) রাজনারায়ণ মুখার্জি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং ভগবানপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রণবকুমার মাইতি অভিযোগ করে বলেন, ‘‌সিপিএমের জমানা থেকে শিউলিপুর, নীলকণ্ঠপুর এবং জলী–গোপীনাথপুর এলাকা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনের পর আগে থেকেই সিপিএমের লোকেদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছিল বিজেপি। ভোট ফলাফলের পর থেকে আমাদের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি, ভয় দেখানো হচ্ছিল। এসবের পরও এদিন আমাদের মিছিলের জনস্রোত দেখে ভয় পেয়েছে বিজেপি। আর তারপর থেকেই শুরু করেছে সন্ত্রাস।’‌ বিজেপি–র বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলের ফল এই ঘটনা।’‌

বিজেপি–র তাণ্ডবে জাগতিতলা বাজারের তৃণমূল কার্যালয়।‌ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top