চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, অগ্রদ্বীপ (কাটোয়া), ২৭ মে- দামাল আমফানের ঝাপটা। তাতেই বিধ্বস্ত হাজার দুয়েক মিটার ভাগীরথীর বাঁধ। কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের চরসাহাপুরে। মঙ্গলবার থেকে জলের উথালপাথাল ঢেউ প্রবল গর্জনে বিকল বাঁধের গায়ে ধাক্কা দেওয়ায় ঘুম ছুটেছে এলাকাবাসীর। বাঁধ পাহারায় রাত জাগছেন পালা করে। তন্ময় প্রামাণিক, কার্তিক বিশ্বাসদের আশঙ্কা, ‘এই বাঁধ ভাঙলে বিশাল এলাকা নদীর পেটে ঢুকে যাবে।’ এলাকার পোড়খাওয়া বাসিন্দারের কথায়, ‘ঝড় ঠান্ডা হতেই পাড় ভাঙতে শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকশো একর চাষজমি নদী গিলেছে। এবার ঘরবসতের দিকে থাবা বাড়িয়েছে।’
আমফান তাণ্ডবের সতর্কতা প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এলাকার নদীপাড়ের পরিবারগুলিকে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আমফান ছুটি নিলেও জলের ঢেউ যে হারে উত্তাল হয়েছে, তাতে কবে যে নিজের ভিটেয় ঢুকতে পারবেন, সেই দুশ্চিন্তায় ঘুম ছুটেছে পরিবারগুলির। ভিটেটাই আস্ত থাকবে কিনা, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে ষোল আনা। বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, তুমুল গর্জনে নদীর স্রোত আঘাত হানছে বাঁধের মাটিতে। সেই ধাক্কায় দুলছে বাঁধ। এহেন ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা প্রশাসনের কানে তোলা হয়েছে জানিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নিতাইসুন্দর মুখার্জি বললেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা না করলে বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যাবে।’ সংশ্লিষ্ট কাটোয়া ২নং ব্লকের বিডিও শমীক পাণিগ্রাহি জানান, ‘ভাঙন রোধ ও বাঁধ মেরামতির প্রস্তাব ঊর্ধ্ব্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।’ ভরসা দিচ্ছে পঞ্চায়েত। আশ্বাস দিচ্ছে প্রশাসন। তবু দু’চোখের পাতা এক করতে পারছে না চরসাহাপুর। মানচিত্র থেকে নিকেশ হওয়ার আতঙ্কে কাঁটা তামাম গ্রাম।‌

অগ্রদ্বীপে ভাগীরথীর বঁাধ। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top