আজকালের প্রতিবেদন- ভাগাড় ও পচা মুরগি–‌কাণ্ডে বিধাননগরের রেস্তোরাঁগুলিতে চলছিল পুরনিগমের অভিযান। খাদ্যের গুণমান ও পরিষ্কার–‌পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখছিলেন মেয়র পারিষদ (‌স্বাস্থ্য)‌, জেলার ভারপ্রাপ্ত ফুড সেফটি ইনস্পেক্টর–‌সহ আধিকারিকেরা। কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর কাজ হচ্ছিল। এর মধ্যেই একটি নামী রেস্তোরাঁয় গিয়ে তাজ্জব বনে যান পুরকর্তারা। সিএফ ব্লকের একটি বাড়ির গ্যারাজে বেআইনিভাবে চলছে রেস্তোরাঁটি। তল্লাশিতে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, ট্রেড লাইসেন্স–‌সহ রেস্তোরাঁ চালানোর কোনও অনুমতি নেই কর্তৃপক্ষের। হাতেনাতে এই অনিয়ম ধরার পর রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বিধাননগর পুরনিগমের তরফে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র পারিষদ। বিশেষ করে বিধাননগরের অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত সিএফ ব্লকে। ওই ব্লক ও লাগোয়া এলাকায় পরপর কয়েকটি রেস্তোরাঁ আছে। বিধাননগরের মেয়র পারিষদ (‌স্বাস্থ্য)‌ প্রণয় রায় বলেন, ‘‌ওই রেস্তোরাঁর প্রধান কার্যালয় মহিষবাথানে। সেখান থেকে রান্না করা খাবার এনে বিক্রি করা হয়। গ্যারাজে দোকান চালানো এমনিতেই বেআইনি। মঙ্গলবার দুপুরে তল্লাশির সময় কর্তৃপক্ষ ব্যবসা করার অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। পরে বিকেলে পুরভবনে গিয়ে একটি নথি জমা দেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, নগরোন্নয়ন দপ্তর সিএফ ব্লকের ওই বাড়ির একতলা ও দোতলায় চা ও স্ন্যাক্সের দোকান করার অনুমতি দিয়েছে একটি সংস্থাকে। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে অন্য সংস্থার নামে গ্যারাজে রেস্তোরাঁ চলছে। বিরিয়ানি–‌সহ মাংসের নানা পদ বিক্রি করা হয় এখানে। ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ছিল। কিন্তু বেআইনি ব্যবসা বলে এর পর আর ট্রেড লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করেনি বিধাননগর পুরনিগম। দোকান বন্ধ করতে কয়েক দফায় নোটিসও দেওয়া হয়েছে আগে। তা সত্ত্বেও দোকান চলছিল। এদিন কর্তৃপক্ষকে বলে দেওয়া হয়েছে, রেস্তোরাঁ তালাবন্ধ না রাখলে থানায় এফআইআর–‌সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’‌
মঙ্গলবার সিএফ ব্লকের ওই রেস্তোরাঁ ছাড়াও বিএফ ব্লকে একটি চীনা খাবারের দোকান এবং একটি ফুড চেইন বিপণিতে আধিকারিকদের নিয়ে হানা দেন মেয়র পারিষদ (‌স্বাস্থ্য)‌ প্রণয় রায়। স্বাস্থ্য দপ্তর জেলার ফুড সেফটি ইনস্পেক্টর মানস চ্যাটার্জিকে পাঠিয়েছিলেন এই অভিযানে। তিনি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যের গুণমান খতিয়ে দেখেন। চীনা খাবারের দোকান থেকে ফ্রিজারে রাখা মাংসের দুটি নমুনা সংগ্রহ করা হয় পরীক্ষার জন্য। ফুড চেইন বিপণি থেকেও বারবিকিউ চিকেনের দুটি প্যাকেট ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। প্রণয় রায় জানান, বিপণিটির ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক। চীনা খাবারের দোকানে পরিচ্ছন্নতায় আরও জোর দিতে বলা হয়েছে।‌

অভিযানে বিধাননগরের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায়। ছবি: জয় সাধুখঁা

জনপ্রিয়

Back To Top