‌‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: রাজ্যে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরুর নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দপ্তর। কোভিড–১৯ পরিস্থিতিতে শিশুদের টিকাকরণ মাঝে বন্ধ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে অন্যান্য রোগে শিশু ও গর্ভবতীদের ভোগার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে অবিলম্বে টিকাকরণ কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এর জন্য আশা, এএনএম, এফটিএস, এইচএইচডব্লু–‌র ‌সব কর্মীকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সুরক্ষা বিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, হাত পরিষ্কার করে, মাস্ক পরে টিকাকরণ চালাতে হবে। গ্রামীণ, শহর, বরো, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও বলা হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কোন জোনে কীভাবে টিকাকরণ কর্মসূচি চালাতে হবে তাও বলা হয়েছে নির্দেশনামায়। টিকাকরণের পাশাপাশি সব ধরনের ভ্যাকসিন দেওয়া, ভিটামিন এ তেল, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া, শিশুদের ডায়ারিয়া প্রতিরোধে ওআরএস এবং জিঙ্ক ওষুধও দিতে বলা হয়েছে। গর্ভবতীদের অ্যান্টিন্যাটাল ও প্রি–‌ন্যাটাল চেক আপের ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    
কন্টেনমেন্ট জোন ও বাফার জোনে জন্ম টিকাকরণ চালু রাখতে হবে। এই জোনের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ, জেলা, স্টেট জেনারেল, গ্রামীণ হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আর্বান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো প্রভৃতি জায়গায় টিকাকরণের সুবিধা মিলবে। বাফার জোন ছাড়া ও গ্রিন জোনের ক্ষেত্রেও এই সমস্ত জায়গায় টিকাকরণ করানো যাবে।  লকডাউনের জেরে টিকাকরণে সমস্যা হচ্ছে বলে শহরের একাধিক শিশু চিকিৎসকের মুখে শোনা গেছিল। একটি ডোজ নেওয়ার পর পরবর্তী ডোজগুলি সময় মতো না নিলে প্রতিষেধকের কার্যকারিতা কমে যেতে থাকে। সেই কারণে টিকাকরণ প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ছেদ না পড়ে, তার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরও পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের টিকাকরণ বন্ধ থাকলে হাম, যক্ষ্মা, পোলিওর মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনও শিশু জন্মানোর পরে হাসপাতালেই তাকে টিকা দেওয়া হয়। এর পরে প্রাথমিক পর্যায়ে দেড় মাস, আড়াই মাস ও সাড়ে তিন মাস বয়সে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস বি–‌র মতো বিভিন্ন প্রতিষেধক দেওয়া হয়। আবার ছ’মাস বয়সের পরে ফ্লু এবং ন’মাস বয়সে হাম, রুবেলা, মামস্‌–‌এর প্রতিষেধক দেওয়া হয়। সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে রুটিন মাফিক ওই প্রতিষেধক পেতে পারে শিশুরা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top