গৌতম চক্রবর্তী- শুরু দীপাবলির কাউন্টডাউন। আর তাতেই চম্পাহটির বাজি গ্রামে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ক্যানিং ট্রেনে চম্পাহাটি রেল স্টেশনে নামলেই শোনা যাচ্ছে বাজি গ্রামে যাওয়ার জন্য অটো, টোটো এবং ভ্যানচালকদের হাঁকডাক। ক্রেতারা তাতে করেই পৌঁছে যাচ্ছেন বাজি গ্রাম হারালে। এখন থেকেই কেউ কেউ পছন্দের বাজির অর্ডার দিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, দিনরাত এক করে গোটা বাজি গ্রাম জুড়ে জোরকদমে চলছে বাজি বানানোর কাজ। কারিগররা তো আছেনই। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরাও। কচিকাঁচা, ছাত্রছাত্রী থেকে বাড়ির বউ, মেয়েরাও। এমনকী বৃদ্ধ–বৃদ্ধারাও। কেউ বানাচ্ছেন ফুলঝুরি, কেউ চরকি, তো কেউ আবার রংমশাল, তুবড়ি–সহ হরেক রকম আলোর বাজি। ভিনরাজ্য থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া শ্রমিকরা শিবকাশীর আদলে নতুন নতুন ধরনের আতসবাজিও তৈরি করছেন। সস্তায় ওই বাজি ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। গত কয়েক বছরে বাজি বাজারে ফানুসের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ফানুসের। এবার হারালেই ফানুস তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন এক বাজি কারবারি। চীনের বদলে এবার হারালের ফানুস সস্তায় ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে বলেই তাঁর ধারণা। বাজি তৈরি এবং বিক্রির পাশাপাশি বাজি বাজারের জন্য অস্থায়ী দোকান বানানোর কাজও চলছে। স্থায়ী দোকান ছাড়াও এ সময় প্রতিবছর কয়েকশো অস্থায়ী দোকানও বসে বাজি বাজারে। তারাই দোকান তৈরি করে পসরা নিয়ে বসছেন। চম্পাহাটি হারাল আতসবাজি সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীপাবলির জন্য বাজি বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও কিনতে নিষেধ করা হচ্ছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবার রেকর্ড পরিমাণ বাজি বিক্রি হবে বলে তাঁদের আশা।

চম্পাহাটিতে আতসবাজি তৈরির ব্যস্ততা। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top