চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়দেব: মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের আগেই পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য খুলে দেওয়া হল বীরভূমের জয়দেব কেঁদুলির মেলা। এবার নির্মল জয়দেব মেলা ঘোষণার পাশাপাশি স্বচ্ছতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারি এই মেলার উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। ছিলেন বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল। অজয় নদের বুকে কীর্তনের আখড়াগুলিতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। ভোরে পুণ্যস্নান সেরে  ধুনো জ্বালিয়ে অচেনা বাউলদের চেনা সুর তোলা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এবছর কুম্ভমেলা না থাকায় গঙ্গাসাগরে উপচে পড়া ভিড়ের একটা অংশ চলে আসতে পারে কেঁদুলিতে। সেটা মাথায় রেখেই মেলায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং।
বাতাস যেন বাউল সুরে মুখরিত। আখড়ায় আখড়ায় চলছে বাউল আর কীর্তন গান। পৌষ সংক্রান্তির পুণ্যস্নান উপলক্ষে কবি জয়দেবের স্মরণে ‌বসেছে জয়দেব মেলা‌। এই মেলা এখন ‘‌বাউল মেলা’‌ হিসেবে পরিচিত। ঠিক কবে থেকে এই মেলার শুরু তা বলা বড় কঠিন। তবে এই মেলা বীরভূমের সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন মেলা। বর্তমান জয়দেব মন্দিরটি কবির আবাসস্থলে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচঁাদ বাহাদুর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এখন তা সংরক্ষণ করছে। বৈষ্ণব কবি জয়দেবের তিরোধান দিবস উপলক্ষে এই মিলন মেলার সূচনা। 
রাত পোহালেই অজয় নদে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান। হাজির হয়েছেন দেশ–বিদেশের মানুষ। প্রায় ৯০০ বছর পূর্বের এক কবিকে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা আজও সমান জনপ্রিয়। সবমিলিয়ে এখন কনকনে শীতে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিয়ে পুণ্যস্নানের আনন্দে সব কষ্ট উধাও।‌

জনপ্রিয়

Back To Top