চাই শিল্পীর সম্মান, পথে নেমে দাবি পানশালার শিল্পীদের

বিভাস ভট্টাচার্য: চাই শিল্পীর সম্মান। না হলে মিলছে না ন্যূনতম সরকারি সাহায্য। আর এই সম্মানের দাবি নিয়েই চলল অবস্থান বিক্ষোভ। পানশালার গায়ক গায়িকাদের। মঙ্গলবার, ধর্মতলায় সিইএসসি অফিসের কাছে। আর শুধু গায়ক গায়িকাই নয়, যোগ দিয়েছিলেন হোটেলের যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী, টেকনিশিয়ান-সহ আরও অনেকেই। করোনা পরিস্থিতি। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছিল বলেই জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
রাতের পানশালা আকর্ষিত হয় অনেকটাই এঁদের জন্য। মদিরা হাতে ঢুলু ঢুলু চোখে সামনে মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা শিল্পীর দিকে একটার পর একটা সঙ্গীতের ফরমাশ ছুড়ে দেন উপস্থিত সঙ্গীতপ্রেমীরা। পছন্দের গানের ফরমায়েশের সঙ্গে দেওয়া হয় পাত্তি বা টাকা। যা 'টিপস' বলেই পরিচিত এবং এর ওপরেই নির্ভর করেন এই শিল্পী এবং এঁদের পরিবার। অথচ রোজগারের পুরো টাকা এঁদের পকেটে ঢোকে না। কী রকম? ওয়েস্ট বেঙ্গল বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ব্যান্ড লিডার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি বাদল সরকার বলেন, হোটেলে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য আমাদের হোটেল সংস্থাকে টাকা দিতে হয়। টিপস যেটা ওঠে সেটা দিয়েই আমাদের হোটেল মালিককে ভাড়ার টাকা মেটাতে হয়। এরপর বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়। এরাজ্যে প্রায় সাত থেকে আট লক্ষ লোক এভাবেই জীবন চালাচ্ছেন। আগে পাড়ার জলসা বা ফাংশনে অনেক কাজ থাকত। এখন সে সমস্তও বন্ধ। তাই সকলেই এই পানশালা বা হোটেলগুলিতে এভাবেই কাজ করে দিন কাটাচ্ছেন। 
তাঁর আক্ষেপ, রাজ্য সরকার বাউল থেকে শুরু করে রাজ্যের অন্যান্য সঙ্গীত শিল্পীদের পাশে দাঁড়ালেও তাঁরা আজও অবহেলিত। 
কিন্তু করোনাকালে এই বিক্ষোভ কেন? উত্তরে বাদল বলেন, রাজ্য সরকার বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করছেন। আমাদের জন্য কি এটুকু করা যেত না? কারণ, এরপর হোটেল খুলে যখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হবে তখন অনুষ্ঠান পরিবেশনের আগে মালিক সবার আগে দেখতে চাইবেন ভ্যাকসিন নেওয়া হয়েছে কি না। যেটা আমাদের অনেকেই পাননি। 
রাত আসে রাত যায়। নেশার রঙ গভীর থেকে ফিকে হয়। ওঁরা ওধারেই পড়ে থাকেন। মনে আশা, একদিন হয়তো পাওয়া যাবে শিল্পীর সম্মান। যেদিন আর জোর দিয়ে বলতে হবে না, আমি শিল্পী, আমি শিল্পী, চাই শিল্পীর সম্মান।