গৌতম মণ্ডল, বকখালি, ২৭ মে- ছ’‌মাস আগের ঘূর্ণিঝড় বুলবুল সব কেড়ে ‌নিয়েছিল। সেই ঝাপটা সামলে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিল বকখালি। তার মধ্যে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে লকডাউন। এবার আমফানের হামলায় আবারও সব শেষ বকখালির সমুদ্রতটের দোকানিরা। সত্তরটির বেশি দোকান সৈকতের কাছাকাছি। প্রত্যেকটি দোকানের চাল উড়ে গিয়েছে। অনেক দোকান ভেঙেচুরে তালগোল। দোকানের সমস্ত জিনিস জলে ভিজে নষ্ট। ক্ষতির পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার থেকে আড়াই লক্ষ পর্যন্ত। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর পিঠ দেওয়ালে। লকডাউন উঠলেও আবার কবে পর্যটক আসবে তার কোনও ঠিকঠিকানা নেই। তার মধ্যে ভাঙা দোকান মেরামত করে আবার চালু করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। 
বুলবুলের দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা। এক মাসের বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিল গোটা এলাকা। পরে ছন্দে ফিরছিলেন লতিকা মণ্ডল, উত্তম বেরা, সঞ্জয় দাসেরা। এঁরা প্রত্যেকেই সৈকতের ওপর ছোট দোকান চালান। কেউ ঝিনুকের শৌখিন সামগ্রী বিক্রি করেন। কেউ আবার চা, টিফিনের দোকান চালান। অনেকেই আবার ছোট হোটেল বা রেস্তোরাঁ। পর্যটকরাই ভরসা। পর্যটন পুরোপুরি বন্ধ। পর্যটকহীন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো সব শেষ করে দিয়ে গেল আমফান। 
বুধবার দুপুর বারোটার পর থেকে এখানে ঝড়ের দাপট বাড়তে থাকে। যত বেলা গড়িয়েছে ততই বেড়েছে দাপট। বিকেল নাগাদ ঝড়ের গতি প্রায় ঘণ্টায় ২০০ কিমির কাছাকাছি ছিল। সেইসময় একটার পর একটা দোকানের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যায়। বাঁশ, কাঠের কাঠামো দেওয়া দোকানগুলি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেইসময় দোকানিরা স্থানীয় বড় হোটেলগুলিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঝড় থেমে যাওয়ার পর ফিরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। চোখের জল মুছে দোকান সারানোর কাজে হাত লাগান।
লতিকা মণ্ডল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চা, টিফিনের দোকান চালান। ঝড়ে দোকান ভেঙেছে। বকখালি সৈকতে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‌ঝড়ের দাপট আগেও দেখেছি। কিন্তু ছোটখাটো ক্ষতি হত। বুলবুলে দোকানপাট সব উড়ে গিয়েছিল। তারপর সারিয়ে আবার দোকান খুলি। এবার একদম ভেঙেচুরে দিয়ে গেছে। ধারদেনা করে শেষ চেষ্টা একটা করব।’‌ ঝিনুকের তৈরি শৌখিন জিনিস বিক্রি করেন সঞ্জয় দাস। বছর ত্রিশের সঞ্জয় বিবাহিত। সংসারে বাবা–মা ছাড়াও আছেন স্ত্রী ও এক মেয়ে। এই দোকান থেকে সামান্য উপার্জনে চলত সংসার। বুলবুলে দোকান ভেঙেছিল। সেই দোকান কোনও রকমে সারিয়ে শুরু করেছিলেন। সঞ্জয় বলেন, ‘আর হয়তো পারব না। দোকানটা ভেঙেছে। মালপত্র সব জলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাড়িটাও ভেঙে গিয়েছে। এখন বাড়ি সারাব না দোকান?‌ ভেবে উঠতে পারছি না!‌’‌‌

বকখালি সমুদ্র সৈকতে ভেঙেচুরে পড়ে আছে দোকান। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top