সুপ্রতিম মজুমদার, উলুবেড়িয়া:‌ গত দু’‌দিন ধরে মাঝেমধ্যেই হলুদ বৃষ্টি!‌‌ আর তার জেরেই আতঙ্কিত বাগনানের বাসিন্দারা। অনেকেই ভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই বৃষ্টির নমুনা সংগ্রহ করে পরিবেশ দপ্তরে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। 
জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার থেকে। বাগনান–১ পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত পাতিনান, কাজিপাড়া, মণ্ডলপাড়া, সাবসিট, শিটপাড়া, মাইতিপাড়া প্রভৃতি এলাকার বাসিন্দারা এই হলুদ রঙের বৃষ্টির সাক্ষী থাকেন। এলাকা জুড়ে গাছের পাতা থেকে শুরু করে টিনের চাল, রোদে শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় প্রভৃতিতে হলুদ রঙের ছোট ছোট ছিটে পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা প্রথমে তরল আকারে থাকলেও পরে এই পদার্থ শুকিয়ে গিয়ে গুঁড়ো হলুদের মতো হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে বিষয়টিকে এলাকাবাসীরা ততটা গুরুত্ব না দিলেও শুক্রবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। এমনিতেই করোনা ভাইরাস গুজবে ওইসব এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। তার উপর এই ঘটনা গুজবের আগুনে ঘৃতাহুতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এলাকাবাসীর উপরে অ্যাসিড জাতীয় কিছু ছোঁড়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন নতুন ধরনের কোনও ভাইরাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। গুজবের দাবানল এতটাই ব্যপ্ত হয়েছে যে, এলাকার মানুষ খোলা জায়গায় রান্না করাও বন্ধ করে দিয়েছেন। ছোট ছেলে–মেয়েদের ঘরের বাইরে পর্যন্ত বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। 
লক্ষ্মী মান্না নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, গত দু'দিন ধরে এই ঘটনা ঘটে চলায় তাঁরা অত্যন্ত আতঙ্কিত। তাঁরা অবিলম্বে এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান। সাবসিট অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শ্রীকান্ত সেন বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বাগনান–১ বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই অজানা পদার্থের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। হলুদ রঙের ওই অজানা পদার্থটির নমুনা সংগ্রহ করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে পাঠানো হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস। বাগনান–১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পঞ্চানন দাস বলেন, ‘‌এই ঘটনায় অযথা আতঙ্কিত হবার মতো কোনও কারণ নেই। পঞ্চায়েত সমিতি ও ব্লক প্রশাসন বিষয়টির উপরে নজর রেখেছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ অসুস্থ হয়নি। এটা সম্পূর্ণ ভাবে একটা প্রাকৃতিক ঘটনা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে ওই যৌগটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পরেই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top