আজকালের প্রতিবেদন- বুধবার থেকে কলকাতা ও জেলায় অটো, টোটো চলাচল শুরু হল। যাত্রীদের চাপ সামলাতে এদিন থেকেই কলকাতায় বাড়ল সরকারি বাসের সংখ্যা। ১৫টি রুটের বদলে এবার বাস চলবে ৪০টি রুটে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় বাস চলাচল শুরু হল। তবে, ২০ জন যাত্রী নিয়েই চলবে বাস। মাস্ক, ফেস শিল্ড ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
লকডাউনের ৬৪ দিন পর অটো, টোটো চলাচল শুরু হল। বেশ কতগুলি নিয়ম বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেগুলি হল, সকাল ৭টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অটো, টোটো চালানো যাবে। ২ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। কন্টেনমেন্ট জোনে অটো যাবে না। যাত্রীদেরও মাস্ক ও স্যানিটাইজার নিয়ে অটো, টোটোতে উঠতে হবে। পাশাপাশি চালকও মাস্ক, গ্লাভস পরবেন এবং স্যানিটাইজার গাড়িতেই রাখতে হবে। অটো ও টোটোর ভেতর বাইরে ভাল করে রোজ পরিষ্কার করতে হবে। এদিন কলকাতার বেশ কয়েকটি রুটের অটো চলে। কিছু জায়গায় ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এজন্য কয়েকটি জায়গায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। ভাড়া নেওয়ার পর অটো–‌টোটো চালককে হাত স্যানিটাইজ করে ফেলতে হবে।
গত দু’‌সপ্তাহ ধরে রাজ্য পরিবহণ নিগম প্রথম দফায় কলকাতার ১৫টি রুটে বাস চালিয়েছিল। যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। ২০ জন যাত্রী নিয়ে আধ ঘণ্টা অন্তর বাস চলাচল করায় যাত্রী সংখ্যার চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আরও নতুন কিছু রুটে বাস চালানো হবে। বেহালা, ঠাকুরপুকুর, আমতলা, জোকা, বারাসত, নিউ টাউন, শাপুরজি, বারুইপুর যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়ার একাংশেও বাস চলবে।
আপাতত গুরুত্বপূর্ণ যে রুটগুলিতে বাস চলাচল শুরু হল, তা হচ্ছে ব্যারাকপুর থেকে হাওড়া, জোকা থেকে ইকোস্পেস, ব্যারাকপুর থেকে করুণাময়ী, নিউ টাউন থেকে বেহালা, বারাসত থেকে এসপ্ল্যানেড, সোদপুর থেকে হাওড়া, পার্কসার্কাস থেকে ডানকুনি, হাওড়া থেকে বারুইপুর। এসপ্ল্যানেড থেকে করিমপুর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস চলবে। করিমপুরে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস চলবে। রাজ্য পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজনবীর সিং কাপুর বলেছেন, ‘‌যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হল।’‌ এছাড়াও বাস চলবে গড়িয়া–‌বনগাঁ, এসপ্ল্যানেড–‌ন্যাজাট, এসপ্ল্যানেড–‌বকখালি, এসপ্ল্যানেড–‌ডায়মন্ডহারবার এবং বারাসত–‌বাদুড়িয়া।‌ এদিকে, বিধাননগর কমিশনারেটের পরিযান বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ারপোর্ট এবং বিধাননগর কমিশনারেটের আওতাধীন এলাকায় হলুদ ট্যাক্সি/‌অ্যাপ ক্যাব এবং প্রি–পেইড ট্যাক্সির ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয় এ জন্য যাত্রী ও চালকের মাঝখানে একটি বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের শিট দেওয়া থাকবে।‌‌

সরকারি নির্দেশে বুধবার থেকে চালু হল অটো পরিষেবা। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যাত্রী আর নিজের মাঝখানে পর্দা টাঙিয়েছেন এক অটোচালক। সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে। বুধবার। ছবি:‌ ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top