প্রদীপ দে,বহরমপুর: রক্তাল্পতা কমাতে ছাত্রীদের আয়রন ট্যাবলেট দেয় শিক্ষা দপ্তর। কিন্ত মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় স্কুলছাত্রীদের ওই ট্যাবলেট না দিয়ে অফিসে বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হতেই ওই বস্তা ভর্তি ওষুধ পুড়িয়ে, মাটিতে পুঁতে দেওয়ার চক্রান্ত ধরা পড়ে গেল। মঙ্গলবার রাতে হরিহরপাড়ায় উদ্ধার হয়েছে ৫ বস্তা আয়রন ট্যাবলেট। তবে তার আগেই ৪/৫ পেটি ট্যাবলেট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হরিহরপাড়ার বিডিও পূর্ণেন্দু সান্যাল এ ঘটনায় শোকজ করেছেন শিক্ষা দপ্তরের এস আই রমজান আলিকে। বিডিও বলেন, ‘‌এই আয়রন ট্যাবলেট ছাত্রীদের জন্য। তাদের না দিয়ে বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হতেই নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।  কেন এমন করা হচ্ছিল তার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার ছাত্রীদের এই ট্যাবলেট নিখরচায় দেয়।’‌ 
স্বাস্থ্য দপ্তর শিক্ষা দপ্তর মারফৎ এই আয়রন ট্যাবলেট নিখরচায় স্কুলের ছাত্রীদের দেয়।  গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ মেয়েই রক্তাল্পতায় ভোগে।  হরিহরপাড়া ব্লকের গ্রামগুলিতে রক্তাল্পতায় ভোগা মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি।  ব্লকে শিক্ষা দপ্তরের যে এসআই অফিস আছে সেখান থেকে নিয়ম করে  স্কুলে স্কুলে পাঠানো হয় ওই ট্যাবলেট। বিশেষ করে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের আয়রন ট্যাবলেট দরকার হয়। হরিহরপাড়ার এসআই অফিস বিডিও অফিস চত্বরেই। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নটা– দশটা নাগাদ এলাকার বাসিন্দারা বিডিও অফিসের পেছনে ধোঁয়া ও পোড়ার শব্দ পান।  তাঁরা দেখেন,এসআই অফিসের এক অস্থায়ী কর্মী গর্ত খুঁড়ছেন। পাশে কিছুু পোড়া ছাই। ওই কর্মীকে চেপে ধরতেই তিনি জানিয়ে দেন ট্যাবলেটের কথা। এবছর জুন মাসে ওষুধগুলির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেকারণেই ট্যাবলেটগুলি পুড়িয়ে এবং পুঁতে নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছিল।  সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বিডিও পূর্ণেন্দু সান্যালকে। বুধবার শোকজ করা হয় এসআই রমজান আলিকে। 

জনপ্রিয়

Back To Top