আজকালের প্রতিবেদন- তিনি ইচ্ছেপত্রেই লিখে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে তাঁকে স্মরণ করার কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৬০টি গানের তালিকাও লিখে গিয়েছিলেন। সেই গান গেয়েই স্মরণসভা হল প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, আজন্ম কমিউনিস্ট ড.‌ অশোক মিত্রের। কিছুটা স্মৃতিচারণ, বাকিটা শুধুই গান। স্মৃতিচারণ করেন অধ্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং অধ্যাপক জয়তী ঘোষ। মঙ্গলবার ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে এই স্মরণসভার আয়োজন করেছিল সমাজ চর্চা ট্রাস্ট, আরেক রকম পত্রিকা ও আত্মীয়স্বজন। বামপন্থী দলগুলি তো বটেই, শহরের বিশিষ্টজনেরাও ছিলেন এই স্মরণসভায়। যেমন ছিলেন সস্ত্রীক কবি শঙ্খ ঘোষ, তেমনি ছিলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, মনোজ ভট্টাচার্য, বরুণ মুখোপাধ্যায়, প্রবোধ সিনহা, ক্ষিতি গোস্বামী, মঞ্জুকুমার মজুমদার, মিহির বাইন, নজরুল ইসলাম, সমীর পুততুন্ডের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। আবার বিভিন্ন গুণগ্রাহী শিল্পী, সাহিত্যিক, অধ্যাপক থেকে শুরু করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও। ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ‘‌আরেক রকম’‌ পত্রিকা এদিনই তাদের অশোক মিত্র সংখ্যাটি প্রকাশ করেছে। শোকপ্রস্তাব পেশ করেন অধ্যাপক মালিনী ভট্টাচার্য। স্মৃতিচারণায় বিমান বসু বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। ৭৭ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর  দেখেছি বামফ্রন্টের দেওয়া ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতিকে আক্ষরিক অর্থে লাগু করার জন্য তাঁর নিরলস প্রয়াস। ভূমি সংস্কার ও জমি বণ্টনে জ্যোতি বসু, বিনয় চৌধুরিদের সঙ্গে অশোক মিত্রও প্রত্যক্ষ অংশ নিয়েছিলেন। যতদিন বেঁচে ছিলেন, অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সমাজনীতি, রাজনীতি নিয়ে তাঁর মেধা, বোধ থেমে থাকেনি। তিনি বলেন, আজ বেঁচে থাকলে রাজ্যের নবম পঞ্চায়েত ভোটের এই দুরবস্থা নিয়ে নিশ্চয়ই লিখতেন, সরব হতেন। অধ্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ব্রিগেডে জয়প্রকাশ নারায়ণের যে ঐতিহাসিক সভা হয়েছিল, সেখানেই প্রথম তাঁকে রাজনীতির ঘনিষ্ঠ হতে দেখি। বন্দিমুক্তি নিয়ে সরব ছিলেন। যা পরে বামফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে জায়গা পায়। যা বিশ্বাস করতেন, তা বেশ জোরের সঙ্গে বলতেন। অধ্যাপক জয়তী ঘোষ বলেন, আমি ওঁর স্নেহচ্ছায়া পেয়েছি ছোটবেলা থেকেই। ওঁর  তিনটি বৈশিষ্ট্য আমায় বিশেষভাবে টানত। সত্যি কথা বলার সাহস। রাজনৈতিক সাহস তো বটেই, প্রিয়জনের সামনে অপ্রিয় সত্য বলতে পারতেন বেশ জোরের সঙ্গে। দ্বিতীয়ত শুধু অল্পবয়সি নন, সমস্ত ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন। তৃতীয়ত লেগে থাকা। চূড়ান্ত অসুস্থ হয়েও জানুয়ারিতে তিনি আমায় বলেছেন, ‘‌জিএসটি নিয়ে একটা মামলা করতে পারছ না!‌ দেরি হয়ে যাচ্ছে যে।’‌ বিমান বসু এদিন সমস্ত মানুষের উদ্দেশে বলেন, অনেকের সঙ্গে অনেক বিষয়ে অশোক মিত্রের মতভেদ বা ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর লেখা, কথা বলা ও অন্যান্য সমস্ত কাজের সূচিমুখ ছিল দরিদ্র ও শোষিত মানুষ। আপনারা যদি দরিদ্র, শোষিত মানুষের পক্ষে কিছু কাজ করতে পারেন তো সেটাই হবে অশোক মিত্রের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো। ‌‌

ড. অশোক মিত্রের স্মরণসভায় বিমান বসু। ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট হলে, মঙ্গলবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top