স্নেহাশিস সৈয়দ,বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের হিকমপুর, গুরুদাসপুর, শহরবাসা, বেঁউচিতলা, সলুয়া গ্রামের কিছু অংশে এক সময়ে চলত  দুষ্কৃতীরাজ। খুন–বোমাবাজি–ছিনতাই লেগেই থাকত। দিন–দুপুরে খুন করে প্রকাশ্য রাস্তায় লাশ ফেলে রেখে যেত দুষ্কৃতীরা। সম্প্রতি এই এলাকার একটি স্কুলকে ঘিরে  মানুষ অন্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি ওই স্কুলে মধুবন আর্ট গ্যালারির সূচনা করেন মুর্শিদাবাদ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পূরবী দে বিশ্বাস। এই গ্যালারিকে ঘিরে গড়ে উঠছে এক নতুন আবহ। বহরমপুর লাগোয়া হাতিনগর পঞ্চায়েতের হিকমপুর হাইস্কুলের এই আর্ট গ্যালারিতে ঠাঁই পেয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার নামী শিল্পীদের আঁকা ছবি। রয়েছে রাজ্যের প্রতিটি জেলার সংক্ষিপ্ত পরিচয়। রয়েছে রাজ্যের সব জেলার হস্তশিল্পের নুমনাও। এসব দেখে আকাশ শেখ, তুহিনা আখতার, মনিজা খাতুন, আসিরুল শেখের মত ছাত্রছাত্রীরা নতুন করে স্বপ্নের জাল বুনছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় খুশি অভিভাবকরাও । ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়ায় ঘুরে দাঁড়াছে গ্রাম ও গ্রামের ছেলেমেয়েরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানান, স্কুলে সংগ্রহশালা গড়ে তোলার দুটি।  প্রথমত, কোনও পড়ুয়া সংগ্রহশালা এক পাক ঘুরলেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা সম্বন্ধে এক ঝলকে সবকিছু জানতে পারবে।  দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজ দেখে কোনও পড়ুয়া যদি হস্তশিল্প নিয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়তে চায়, তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সুযোগ করে দেবে। আর্ট গ্যালারির সাতশো কুড়ি স্কোয়ার ফুটে  উঠে এসেছে গোটা বাংলা। মুর্শিদাবাদ-সহ কুড়িটি জেলার বিভিন্ন হস্তশিল্পের নিদর্শনে  ঘর ঠাসা। রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পটচিত্র-মাদুর কাঠির কাজ, বাঁকুড়ার ডোকরা–টেরাকোটা–বেলমালা–কাঠের কাজ,  জলপাইগুড়ির লুপ্তপ্রায় বাদ্যযন্ত্র সারিঞ্জা ও দারুশিল্পের কাজ, পুরুলিয়ার ছৌ–এর মুখোশ, মুর্শিদাবাদ জেলার শোলার কাজ, কাঠের কাজ, বাঁশের গুঁডি়র কাজ, পাটের কাজ। সংগ্রহশালার মধ্যে কংক্রিটের সাতটি দেওয়াল তুলে ছোট ছোট কেবিন করে প্রতিটি কেবিনে সৃষ্টির আদি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিটি জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও দ্রষ্টব্য স্থানের ছবির কোলাজ করা হয়েছে। এতে প্রতিটি জেলাকে পৃথক ভাবে চিনতে সুবিধা হবে।‌

হিকমপুর হাইস্কুলের আর্ট গ্যালারিতে নামী শিল্পীদের আঁকা ছবি। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top