আজকালের প্রতিবেদন: ত্রিপুরার জয় নিয়ে বিজেপি–র উৎসাহিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর মতে, সিপিএম বিজেপি–র কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বলেন, কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে জোট করলে ত্রিপুরার ভোটের ফলাফলই পুরো বদলে যেত। ওরা ১০টির বেশি আসন পেত না। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাহুল গান্ধীকে বলেছিলাম ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস ১৪টি আসনে লড়াই করবে। পাহাড়িয়া দলগুলিকে ১৬টি আসন দেওয়া হোক এবং বাকি ৩০টিতে কংগ্রেস লড়াই করুক। কিন্তু আমি জানি না, কার বুদ্ধিতে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস আমার প্রস্তাব মানলেন না। কংগ্রেস যদি ঠিকমতো লড়াই করত তা হলে ৪–৫ শতাংশ ভোট পাওয়াটা কোনও ব্যাপার ছিল না। বিজেপি মাত্র ৫ শতাংশ ভোট বেশি পেয়েছে। কেন কংগ্রেস বিজেপি–কে অক্সিজেন দিল, বুঝতেই পারলাম না। উত্তর–পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে যা হয়, এখানেও তাই হয়েছে। টাকা আর ক্ষমতার জয় হয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, কেন্দ্রে যারা সরকার গড়ে তারাই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে আর টাকা উড়িয়ে ভোট করিয়ে ক্ষমতা দখল করে। কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে জোট না গড়ায় মাত্র ১.‌২৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এটা তো ওদের লজ্জা। কারণ ত্রিপুরায় তো ওরাই প্রধান বিরোধী দল ছিল। আমাদের প্রস্তাব মানলে আমি নিজে ওখানে ৪–৫টি সভা করতে পারতাম। তা হলে এই ফল হত না। কারণ আমি জানি ত্রিপুরার মানুষ আমাকে ভালবাসেন। ওখানে আমরা নতুন করে শুরু করব। সেটাই আমার চ্যালেঞ্জ হবে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, সিপিএম যদি আত্মসমর্পণ না করত তা হলে ওদের ফল খারাপ হত না। ওরা জানত বিজেপি হোসপাইপের মতো টাকা খরচ করছে, ইভিএম নিয়ে অনেক কীর্তি হয়েছে। বাইরের হাজার হাজার লোক নিয়ে এসে, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করিয়েছে। কিন্তু সিপিএম কিচ্ছু বলেনি। কোনও প্রতিবাদ করেনি। নির্বাচন কমিশনেও কিছুই জানাল না। কেন ওরা প্রতিবাদ করেনি সেটা আমার জানার দরকার। ফল ওদের খুব একটা খারাপ হয়নি। ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ৫ শতাংশ ভোট এদিক ওদিক হয়েছে। বিজেপি তো এখন আর সরকার চালায় না। কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরোপুরি রাজনৈতিক হয়ে গেছে। যা আগে কখনও হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও কাজ করে না। জোর করে সব রাজ্যকে দখলে রাখতে চাইছে। এদের কাজই হল মানুষকে ভয় দেখানো। জোর করে এজেন্সি দিয়ে উত্ত্যক্ত করা। বলেছিল, তুমি চুপ করে থাকো, না হলে এজেন্সি ধরাব?‌ এটা পুরোটাই আমার কাছে রহস্য। যদিও ওখানে মানুষ পরিবর্তন চাইছিলেন। বামফ্রন্ট অনেক দিন সরকার চালিয়েছে। মমতা মনে করেন, সিপিএমের ঔদ্ধত্য, আত্মসমর্পণ, অহঙ্কারের পরাজয় হয়েছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে বারবার বলা হচ্ছে, আগে কখনও ত্রিপুরায় পরিবর্তন হয়নি। এটা ঠিক নয়। ১৯৮৭ সালে আমি সেখানে পরিবর্তন এনেছিলাম। ’‌৯২ সালে পরিবর্তনের জন্য আবহাওয়া তৈরি ছিল। কিন্তু সিপিএমের কথায় নরসিংহ রাও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিলেন। না হলে সেবার কংগ্রেস সেখানে জিতত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে এবারও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে বিজেপি কিছু করতে পারেনি। মেঘালয়ে ওরা কিছু করতে পারেনি। নাগাল্যান্ডেও আঞ্চলিক শক্তির জয় হয়েছে। ত্রিপুরার জয়কে কেউ কেউ বড় করে দেখছে। ত্রিপুরা ছোট, সুন্দর রাজ্য। মাত্র ২৫ লক্ষ ভোটার। আমাদের হাওড়া জেলার ভোটারই ৩৮ লক্ষের বেশি। ত্রিপুরায় মাত্র ২টি লোকসভার আসন। এটা নিয়ে নাচানাচি, দাপাদাপি করার কোনও কারণ আছে কি?‌ আসলে কখনও কখনও আরশোলারও শখ হয় ময়ূরের পুচ্ছ লাগানোর। আর যাঁরা পিঁপড়ের ডিম খেতে ভালবাসেন, তাঁরা পিঁপড়ের ডিম দেখেই লাফালাফি করেন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে হেরেছে। গুজরাটে নৈতিক পরাজয় হয়েছে। গেম এত ইজি নয়। আমি বলে দিচ্ছি কর্ণাটক ওরা হারবে। বাংলা, ওডিশা অনেক দূর। ২০১৯ সালে দিল্লিতে গদি ধরে রাখতে পারবে তো?‌ বড় বড় কথা। ওরা স্বর্ণযুগের কথা বলছে?‌ স্বর্ণযুগ তো এখনই। দেশটা লুঠ হয়ে যাচ্ছে। সরকার কোনও কিছু করছে না। কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ওদের চূড়ান্ত বিপর্যয় হবে। সেই পতন শুরু হবে কর্ণাটক, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ দিয়ে। আমি মনে করি যাঁরা এই জয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। পিপীলিকার পাখা গজিয়েছে। মানুষ অনেক দিয়েছে, আপনারা অনেক পেয়েছেন। কিন্তু কিছুই করেনি। মানুষকে কব্জা করতে চাইছেন?‌ স্বর্ণযুগ তো দূরঅস্ত্‌, সোনা–রুপো তো পরের কথা, ২০১৯–এ তামা পাবেন তো?‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top