আবির রায়,পাণ্ডবেশ্বর: মনুয়া–কাণ্ডের ছায়া এবার পাণ্ডবেশ্বরে। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাই পথের কাঁটা সরাতে প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে খুন করানোর অভিযোগ উঠছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে খুন করে অজয় নদের চরের বালিতে পুঁতে দেওয়া দেওয়া হয়। চারদিন আগে অজয়ের চরে স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিহতের হাতে আঁকা উল্কি দেখে শুক্রবার রাতে মৃতদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন।
পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই খুন করা হয়েছে পাণ্ডবেশ্বরের কেন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় বাউড়িকে (৩৮)। ইতিমধ্যে মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী আর তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার  করেছে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিস। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার পাণ্ডবেশ্বরের শ্যামলা গ্রামের কাছে অজয় নদের চর থেকে বালি খুঁড়ে উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির মৃতদেহ। সেই সময়  মৃতদেহের পরিচয় পাওয়া না গেলেও মৃতের হাতে, বুকে আঁকা উল্কি দেখে গ্রামবাসীরা পুলিসকে জানান এই দেহ কেন্দ্রা গ্রামের সঞ্জয় বাউড়ির। মৃতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে পরিবারের লোকজন এসে দেহ শনাক্ত করেন। শুক্রবার রাতে ময়না তদন্তের পর মৃতদেহ থানায় এনে সঞ্জয়ের পরিবারের লোকজন, আত্মীয় পরিজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন খুনিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে। এছাড়া গ্রামের লোকজন দোষীদের শাস্তির দাবি তুলে থানায় তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস সঞ্জয়ের স্ত্রী সাধনা বাউড়ি ও তার প্রেমিক সুরোজ বাউড়িকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। দফায় দফায় জেরার মুখে ধৃতরা খুনের কথা স্বীকার করে নেয় বলে পুলিস জানিয়েছে। সঞ্জয়ের দিদি মিনা বাউড়ি অভিযোগ করেন, ‘‌সাধনার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই খুন হয়েছে আমার ভাই।’‌ দাদা সঞ্জিত বাউড়ি অভিযোগ করে বলেন, ‘সাধনার অন্যর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক আছে জেনে ফেলাতেই ভাইকে খুন করা হয়েছে। এর পিছনে ভাইয়ের স্ত্রী আর প্রেমিক ছাড়াও অন্য লোক আছে।’‌
পুলিস সূত্রে জানা গেছে, মৃতের স্ত্রী সাধনা সুরজের সঙ্গে মেলামেশা করত ভাই পরিচয় দিয়ে। মঙ্গলবার রাতে নিজের বাড়িতে মদের আসর বসিয়ে সঞ্জয়কে বেশি করে মদ খাওয়ানো হয়। সে নেশায় বুদ হয়ে পড়লে বুকে গুলি করা হয়। তারপর দু’‌জনে মৃতদেহ একটা বিছানার চাদরে পেঁচিয়ে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রায় আড়াই কিমি দূরে বালির চরে গর্ত করে পুঁতে দেয়। খুনের অপারেশনে চারজন ছিল। পুলিস কমিশনার এলএন মিনা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনও ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ধৃতরা খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিস জানিয়েছ। সঙ্গী আরও দু’‌জনের খোঁজ চলছে। 

পাণ্ডবেশ্বর থানার বাইরে ভিড় স্থানীয়দের। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top