আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্যেই তৈরি করতে হবে নির্মাণ সামগ্রী। প্রস্তাব পেলে পানাগড়ে ১০০ একর জমি দিতেও প্রস্তুত রাজ্য সরকার। জানালেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। শুক্রবার কলকাতায় কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই)–‌এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এমনটাই জানান। অর্থমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে নির্মাণকাজের জন্য উপযোগী সামগ্রীর মধ্যে ৩৫টিই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমদানি করা হচ্ছে আরও ২৫টি জিনিস। উদাহরণ হিসাবে শৌচাগারের কমোড থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপাদানের কথা উল্লেখ করেন। অমিতবাবুর দাবি, এগুলি রাজ্যেই উৎপাদন সম্ভব।
নির্মাণ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সেমিনারে এদিন অমিত মিত্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মার্লিন গ্রুপের চেয়ারম্যান সুশীল মোহতা, টাটা হিটাচির এম বিজয়কুমার, পেইন্ট অ্যান্ড কোটিং স্কির কাউন্সিলের সিইও জগদীশ আচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, পানাগড়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার শিল্পনগরী তৈরি করেছে। সেখানে শুরু হয়েছে সিমেন্ট তৈরি। এবার অন্যান্য সামগ্রীও তৈরি করতে হবে। সিআইআই–‌কেই তিনি এবিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বিল্ডিং তৈরির উপকরণ তৈরির জন্য সিআইআই পরিকল্পনা তৈরি করলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম দ্রুত ১০০ একর জমি দিতে প্রস্তুত। শুধু তাই নয় প্রকল্প ভাল হলে আরও ১০০ একর জমির বন্দোবস্ত করা যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। অর্থমন্ত্রীর মতে, বাইরে থেকে নির্মাণ সামগ্রী আনার বদলে নিজেরা তৈরি করলে বিনিয়োগ বাড়বে। তৈরি হবে কর্মসংস্থানও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অমিত মিত্র এদিন জানান, গোটা দেশে আর্থিক মন্দার প্রকোপ পড়লেও বাংলায় কোনও প্রভাব নেই। এখানে বাড়ি বিক্রিও হচ্ছে ভালই। ৯০ শতাংশেরও বেশি শপিং মল নির্মাণের পর বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে মাত্র ২.৭ শতাংশ। আর মাঝারি বা ছোট আবাসনের ক্ষেত্রে বিক্রি বেড়েছে। ভয়ঙ্কর উন্নতি হয়েছে কম দামের আবাসনের ক্ষেত্রে। 
দক্ষিণ ও উত্তর কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিম কলকাতাতেও আবাসন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। উত্তর ভারতে ব্যাঙ্কের টাকা পরিশোধ নিয়ে সমস্যা হলেও এরাজ্যে এধরনের কোনও সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। জানান, রাজ্য সরকারের তৈরি করা ২০ হাজার সুখবৃষ্টি আবাসন বিক্রি হয়ে গিয়ে এখন মানুষ প্রতীক্ষায় রয়েছেন আরও আবাসনের।‌

সিআইআইয়ের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

জনপ্রিয়

Back To Top