অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর: প্রথম দিনই জমে গেল ‘‌আহারে তেহট্ট’‌। নদিয়া জেলায় এই প্রথম ‘‌আহারে তেহট্ট’‌ খাদ্যমেলার আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে বুধবার সন্ধেয় করিমপুর সদ্ভাব মণ্ডপ ও লালন মঞ্চে এই মেলার উদ্বোধন করেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। উপস্থিত ছিলেন তেহট্টের মহকুমা শাসক অনীশ দাশগুপ্ত, করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহরায়–সহ মহকুমার ৪ ব্লকের বিডিও ও অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‌মাস দেড়েক আগে চার বিডিও, মহকুমা শাসক মিলে এক বৈঠকের সময় হঠাৎই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম খাদ্যমেলা করতে হবে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যমেলা হয়ে থাকে। তাহলে আমরা কেন পারব না।’‌ এলাকার বহু মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও বাড়ির গৃহিণীরা বাড়িতে নানা স্বাদের খাবারের উপকরণ তৈরি করে থাকেন। সকলের রান্নার কৃতিত্ব তুলে ধরতে এই মেলা করা দরকার বলে জানান মহুয়া। 
বুধবার করিমপুরে খাদ্যমেলা শুরু হল। এদিন সন্ধে থেকেই প্রত্যেকটি স্থলে নানা প্রকার খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন এলাকার মানুষজন। ঝাল থেকে মিষ্টি— সব রকমের লোভনীয় খাবারই পাওয়া যাচ্ছে করিমপুরের খাদ্যমেলায়। মটন কষা বা মটন বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস কিংবা চিলি ফিশ, লিকার চা থেকে ফিশ ফ্রাই, রসমালাই হোক বা দই অথবা দক্ষিণ ভারতীয় খাবার ইডলি, ধোসা, সম্বর ও চাটনি। খাদ্যরসিক মানুষদের কথা মাথায় রেখেই এমনই এক মেলার আয়োজন করছে তেহট্ট মহকুমা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় অনুষ্ঠিত কলকাতার খাদ্যমেলা ‘আহারে বাংলা’র অনুকরণে করিমপুরের সদ্ভাব মণ্ডপচত্বরে মহকুমা খাদ্যমেলা ‘আহারে তেহট্ট’ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার শুরু হয়ে ১ মার্চ, রবিবার শেষ হবে। প্রত্যেক দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯‌টা পর্যন্ত এই মেলা চলবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেলার মুখ্য উদ্দেশ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি বিভিন্ন স্বাদের খাবার সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা। এ ছাড়াও সাধারণ গৃহিণীদের হাতেও নতুন স্বাদের খাবারের উপকরণ ও প্রণালী তুলে দেওয়া। মেলায় মোট ৪০টি খাবারের স্টল বসেছে। ২৫টি স্টলে বিভিন্ন রকমের তৈরি খাবার নিয়ে হাজির হয়েছেন মহকুমার ২৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। এ ছাড়াও ৯টি স্টলে পাওয়া যাচ্ছে জেলার নামকরা নানারকম খাবার। তার মধ্যে কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত সরপুরিয়া কিংবা সরভাজা যেমন আছে, তেমনই আছে নবদ্বীপের প্রিয় দই, ধুবুলিয়ার ক্ষীরের মিষ্টি। তেহট্ট–২ ব্লকের ‘বিএসপিএস’ গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি মটন বিরিয়ানি ও মটন কষার পাশাপাশি ‘আলিঙ্গন’–এর বানানো নানপুরি ও চানামশলা। এ ছাড়াও ‘রাত্রি’র তৈরি ফ্রায়েড রাইস কিংবা চিলি ফিশ যেমন থাকছে তেমনই করিমপুর–১ ব্লকের ‘নীলকণ্ঠ’ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা হাজির আছেন দক্ষিণের খাবার নিয়ে। ইডলি–ধোসা, সম্বরের সঙ্গে চাটনি ও নোনতা পিঠে মিলবে ওই স্টলে। চাওমিন, এগরোলের সঙ্গে ঘুগনি, পেঁয়াজি, চপ, বেগুনি, পাপড় ছাড়াও শিঙাড়া, মিষ্টি, গজার মতো বহু রকমের খাবারের গন্ধে ম–ম করছে করিমপুরের খাদ্যমেলা চত্বর। মেলা চলাকালীন পুরুষ ও মহিলাদের রান্না প্রতিযোগিতা হবে। মহিলারা পোলাও আর পুরুষেরা খাসির মাংসের নানা পদ তৈরি করতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন।

জনপ্রিয়

Back To Top