গৌতম মণ্ডল,কাকদ্বীপ: টানা ৬১ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের ইলিশ ধরার মরশুম। সুন্দরবনের নামখানা, কাকদ্বীপ, ফ্রেজারগঞ্জ, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমার প্রায় ৪ হাজারের বেশি ট্রলারে চলছে সমুদ্রে যাওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ট্রলারগুলিতে পড়েছে নতুন রঙের পোচ। সরকারি নিয়ম মেনে কমলা রং করা হয়েছে প্রতিটি ট্রলারকে। জোরকদমে চলছে জাল–‌সহ আনুসাঙ্গিক সামগ্রী সারাই ও গুছিয়ে নেওয়ার কাজ। ভর্তি হচ্ছে তেল, খাবার ও মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ। ট্রলারগুলিতে মা গঙ্গাকে পুজো দিয়ে প্রথম ট্রিপের জন্য প্রস্তুতি সারা। 
অন্যদিকে, রাজ্য মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ট্রলারগুলির বৈধ ছাড়পত্র তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। বুধবার কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দর থেকে ট্রলার মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৪৬টি ড্যাট যন্ত্র (‌দূর নিয়ন্ত্রক বিপদ সঙ্কেত যন্ত্র)‌। এই যন্ত্রের মাধ্যমে সমুদ্রে বিপদে পড়লে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন মৎস্যজীবীরা। গত বছরের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কাকদ্বীপ, নামখানা ঘাটে গেলেই ধরা পড়ছে সেই ব্যস্ততার ছবি। আর সপ্তাহখানেক পর থেকে বাঙালির প্রিয় টাটকা ইলিশ মিলবে বলে আশাবাদী মৎস্যজীবীরা। তবে সব কিছু নির্ভর করছে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ওপর। ‌কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দরে এক ট্রলারের মাঝি বিপুল দাস বলেন, ‘‌শেষ প্রস্তুতি চলছে। মৎস্য দপ্তরের লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর আমরা বেরিয়ে পড়ব। এবছর এখনও সমুদ্রে বর্ষা নামেনি। বৃষ্টি নামলে তবেই মাছ ধরা পড়বে।’‌ 
গত বছরের দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে মৎস্য দপ্তর। এবছর প্রত্যেক মৎস্যজীবীর জন্য ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মৎস্যজীবীর নাম, ঠিকানা প্রতিটি ট্রিপের আগে দপ্তর ও সংগঠনকে জানাতে হবে। জেলার সহ–মৎস্য অধিকর্তা জয়ন্ত প্রধান বলেন, ‘‌মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সব নিয়ম মানলে তবেই মিলছে লাইসেন্স। ড্যাট দেওয়া হয়েছে ৪০টির বেশি। ড্যাট চালানোরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করি দুর্ঘটনা ঘটবে না।’‌ কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী ইউনিয়নের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘‌আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাছ ধরে ট্রলার ফিরবে। আশা করছি ইলিশ মিলবে। তবে আবহাওয়ার ওপর সব কিছু নির্ভর করেছে।’‌‌‌

‌কাকদ্বীপ বন্দরে ট্রলারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top