KMC Election: 'টিকিটটাই বড় বিষয়', কংগ্রেসে যোগদানের পর সুচিত্রার মন্তব্য

বিভাস ভট্টাচার্য: নতুন দলে মানিয়ে নিতে কি অসুবিধা হচ্ছে? 'একেবারেই নয়।

মনে হচ্ছে আমি এই দলেরই একটা অংশ এবং এই দলেই ছিলাম। সম্পর্কটা মনে হচ্ছে অনেক পুরনো।' উত্তর সুচিত্রা বোসের। কলকাতা পুরনিগমের ভোটে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে যিনি যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। কংগ্রেসের প্রতীকেই লড়তে নেমেছেন পুরনো দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী দেবিকা চক্রবর্তী। 

ভোটের আগে দল ছাড়লেন কেন? টিকিটটাই কি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াল? এতটুকু না ভেবে সুচিত্রার উত্তর, 'হ্যাঁ, ওটাই বড় বিষয়। এতদিন ধরে এই দলটা করে আসছি। যখন যে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তখন সেটা নিষ্ঠার সঙ্গে করেছি। এলাকার কিছু কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ের পাশাপাশি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যখন যেমন প্রয়োজন হয়েছে তখনই সেভাবে এগিয়ে গেছি। নিজের পয়সা খরচ করেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। করোনার সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এই ওয়ার্ডের কেউ কখনও বলতে পারবে না আমি কারোর থেকে একটা পয়সাও চেয়েছি। আমার কোনও সন্তান নেই। তাই ওয়ার্ডের মানুষদের নিজের সন্তানের মত করে দেখি। কেন আমি টিকিটের আশা করব না?' 

আরও পড়ুন: 'কংগ্রেস লড়ছে না বলে বিজেপি জিতছে', মুম্বইয়ে বিস্ফোরক মমতা

তাঁর আশায় জল পড়ে যায় যেদিন তৃণমূল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল। অভিমানী সুচিত্রা এরপরেই সিদ্ধান্ত নেন কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার। এই ওয়ার্ডের সীমানাটা বেলগাছিয়া থেকে দমদমের বীরপাড়া পর্যন্ত। ভোটারের সংখ্যাটা ৫০ হাজারের কিছু বেশি। বাংলা এবং হিন্দি, দুই ভাষী লোকই এখানে থাকেন। এই ওয়ার্ডের পুরপিতা ছিলেন তৃণমূল সাংসদ চিকিৎসক শান্তনু সেন। সুচিত্রার দাবি, এই ওয়ার্ডে তাঁর যা পরিচিতি আছে সেই পরিচিতি অন্য কোনও প্রার্থীর নেই। এই কংগ্রেস প্রার্থীর অভিযোগ, 'শান্তনুবাবুর কাছে যেতে হলে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অনেক হ্যাপা পোহাতে হত‌। উন্নয়নের কাজ কিছুই হয়নি। জিতলে আমি প্রমাণ করে দেব কাউন্সিলরের দরজাটা সবসময়ের জন্যই খোলা রাখতে হয়।' 

তাঁর এই দাবি এবং অভিযোগের উত্তরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সন্দীপ রায়চৌধুরি বলেন, 'সুচিত্রাদেবী সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন। উনি কোনওদিনই দলটা সেভাবে করেননি। মাঝে মাঝে আসতেন এবং ঘুরে চলে যেতেন। ২০১৯-এর আগে কিছু পয়সা খরচ করে নেত্রী হতে চেষ্টা করেছিলেন। এখন আঙুর ফল টকের মতো অবস্থা। শান্তনু সেনকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নব রূপকার বলা হয়। তাঁর দরজাও যেমন সবসময়ের জন্য খোলা থাকত তেমনি তিনি সকলের পাশেই দাঁড়াতেন।'

আকর্ষণীয় খবর