যজ্ঞেশ্বর জানা, কাঁথি: ১১ মার্চ এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হয় রিনা বিবির (‌২৭)‌। মৃতার ঠিকানা ভুল লেখা হয়েছিল ডেথ সার্টিফিকেটে। কিন্তু খুনের অভিযোগ হওয়ায় প্রয়োজন ছিল সঠিক ঠিকানার। নতুন করে ডেথ সার্টিফিকেট দিতে দুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছিল হাসপাতাল। ডেথ সার্টিফিকেট না থাকায় পুলিস দেহ ময়না তদন্তে পাঠায়নি। মৃতদেহ দুদিন ফেলে রাখাও সম্ভব না। তাই মেয়ের দেহ কবর দিয়ে দিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পেয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন বিচারক। তাঁর নির্দেশ মতো মঙ্গলবার রামনগর থানার মান্দারপুর থেকে কবর খুঁড়ে রিনা বিবির (২৭) অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিস।  এদিন রামনগর ২ ব্লকের বিডিও প্রীতম সাহা, মৈতনা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তমালতরু দাস মহাপাত্রের উপস্থিতিতে জুনপুট কোস্টাল এবং রামনগর থানার পুলিস দেহ কবর খুঁড়ে উদ্ধার করে। বিডিও প্রীতম সাহা বলেন, ‘‌ওই বধূকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে  অভিযোগ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে কবর খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হল।’‌
বছর সাতেক আগে রামনগরের মান্দারপুরের রিনার সঙ্গে বিয়ে হয় কাঁথির জুনপুট কোস্টাল থানার দক্ষিণ মুড়াবনিয়ার যুবক শেখ সামসুদ্দিনের সঙ্গে। সম্প্রতি অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল সামসুদ্দিন। এনিয়ে অশান্তি চলত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। অভিযোগ, প্রায়ই স্ত্রীর ওপর অত্যাচার চালাতো সামসুদ্দিন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় রিনার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। স্থানীয়রা অগ্নিদগ্ধ রিনাকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। রিনার বাবা শেখ ওয়াজেদ আলি এই ঘটনায় অভিযোগ জানালে জুনপুট কোস্টালের পুলিস সামসুদ্দিন–সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রিনাকে কলকাতা রেফার করে কাঁথি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ১১ মার্চ অসুস্থ হয়ে পড়লে ফের রিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএমে। সেখানে মৃত্যু হয় রিনার।

জনপ্রিয়

Back To Top