Adhir Choudhuri: কানাইয়ালাল হত্যাকাণ্ডে বিজেপির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল কংগ্রেসের

শ্রেয়সী পাল : রাজস্থানের উদয়পুরে পেশায় দর্জি কানাইয়ালালের হত্যাকাণ্ড মামলায় বিজেপির উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিল কংগ্রেস।

নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যকে সমর্থন করে সম্প্রতি কানাইয়ালাল একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন।  সেই আক্রোশের বশে  মহম্মদ রিয়াজ আট্টারি এবং মহম্মদ গাউস  নামের রাজস্থানের দুই ব্যক্তি প্রকাশ্য দিবালোকে কানাইয়ালালের টেলারিং দোকানে ঢুকে তাকে খুন করেন এবং গোটা ঘটনা নিজেদের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। 
তবে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফ থেকে বিভিন্ন ছবি প্রকাশ্যে এনে দাবি করা হয়েছে কানাইয়ালাল খুনের অন্যতম অভিযুক্ত রিয়াজ আট্টারির সাথে বিজেপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দু'বছর আগে  রাজস্থান বিজেপি নিজেদের ফেসবুক পেজে রিয়াজ আট্টারিকে একজন 'উৎসর্গীকৃত বিজেপি কর্মী' বলে উল্লেখ করেছিল বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। 

 


রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, 'সম্প্রতি রাজস্থানের উদয়পুরে কানাইয়ালাল নামে যে দর্জি খুন হয়েছেন সেই ঘটনার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তের সাথে বিজেপির কি সম্পর্ক তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা প্রমান পেয়েছি কানাইয়ালালের হত্যাকারীদের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল।  বিজেপির বিভিন্ন নেতার সাথে খুনের ঘটনার অভিযুক্তদের ছবিও এখন  আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই বিজেপি এখন স্পষ্ট করে বলুক যারা কানাইয়ালালের হত্যাকারী তাদের সাথে বিজেপির কি সম্পর্ক এবং এই খুন পূর্বপরিকল্পিত কিনা।' 

আরও পড়ুন :Weather Update: অবশেষে স্বস্তি! সকাল থেকেই মেঘের ঘনঘটা, কলকাতায় দিনভর বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের


অধীরবাবু দাবি করেন, 'জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ -র গোয়েন্দারাও ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন কানাইয়ালালের হত্যাকারীদের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। আমার মনে হয় এই ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরে বিজেপি দলের তরফ থেকে এর ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।'
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কাতে আদানী গোষ্ঠীর বিদ্যুতের টাওয়ার বসানোরকে কেন্দ্র করে শনিবারের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অধীরবাবু পরোক্ষে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করলেন। তিনি বলেন,' কংগ্রেস দল শিল্পের বিরোধী নয়। বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।  যেহেতু বাংলাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে তাই সেখানে বিদ্যুৎ যাওয়া প্রয়োজন এবং তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ যায়।' 


অধীরবাবু আরও বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে হাইটেনশন বিদ্যুতের তার গিয়েছে। আমি বিজ্ঞানী নই, তাই আমার জানা নেই হাইটেনশন তার কোনও জায়গা দিয়ে গেলে সেখানে আম, লিচু বা অন্য ফসলের ক্ষতি হয় কিনা। তবে হাইটেনশন তার নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও কৃষকের জমি জোর করে অধিগ্রহণ হলে এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পেলে সেই কৃষকদের আন্দোলন করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত কৃষকদেরকে নিজেদের 'কনফিডেন্সে' নিয়ে সমস্ত কাজ করা। তবে গ্রামের কৃষকদের গোটা বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হলে প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদেরকে বোঝানো উচিত। কথায় কথায় বল প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।' অন্যদিকে শনিবারের পর রবিবারও ফারাক্কার দাদনটোলা গ্রামে পরিস্থিতি থমথমে। গ্রামের প্রচুর মানুষ ঘর ছাড়া এবং বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছেন। তারই মধ্যে জোর কদমে বাংলাদেশের দিকে হাই টেনশন তার নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে।

আকর্ষণীয় খবর